অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: অপরিচিতা গল্পে অপরিচিতা বিশেষণের আড়ালে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী নারীর কাহিনী বলা হয়েছে তার নাম কল্যাণী। অপরিচিতা গল্পে তার পিতা শম্ভুনাথ সেন এবং কন্যা কল্যাণীর সমাজের জেঁকে বসা যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সেইসাথে ফুটে উঠেছে অনুপম নামে ব্যক্তিত্বহীন এক যুবক এর আত্মকথা।
অপরিচিতা গল্পটি পড়ার পরেই এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য অপরিচিতা গল্পের mcq, অপরিচিতা গল্পের অনুধাবন মূলক প্রশ্ন অথবা অপরিচিতা গল্পের বহুনির্বাচনী প্রশ্ন উত্তর জানার প্রয়োজন পড়ে। এগুলো ভালোভাবে পড়লে পরীক্ষায় পূর্ণ মার্ক পাওয়া সম্ভব।
অপরিচিতা গল্পের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর জানার পরে অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন জানার প্রয়োজন পড়ে। শুধু বহুনির্বাচনী প্রশ্ন পড়লে হবে না পাশাপাশি অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন জানতে হবে। তাহলে অপরিচিতা গল্প থেকে প্রশ্ন আসলে পূর্ন মার্ক পাওয়া যাবে।
অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
Oporichita mcq, oporichita sort question
অপরিচিতা mcq ভালোভাবে পড়লে অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন অনেকটা পড়া হয়ে যাবে। অপরিচিতা গল্পের mcq পড়ার পাশাপাশি আমরা জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর পড়বো। তাহলে আর দেরি না করে এখন আমরা অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন পড়া শুরু করব।
অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তরে পূর্ণ মার্ক পেতে হলে বহুনির্বাচনী প্রশ্ন জানার পাশাপাশি অপরিচিতা গল্পের জ্ঞান মূলক প্রশ্ন উত্তর জানতে হবে।
প্রশ্ন- "অপরিচিতা" কোন পুরুষের জবানিতে লেখা গল্প?
উত্তর: উত্তম পুরুষের জবানিতে লেখা গল্প।
প্রশ্ন- শম্ভুনাথ সেকরার হাতে কী পরখ করতে দিয়েছিলেন?
উত্তর: শম্ভুনাথ সেকরার হাতে একজোড়া এয়ারিং পরখ করতে দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন- অনুপমের বাবার পেশা কি ছিল?
উত্তর: অনুপমের বাবার পেশা ছিল ওকালতি।
প্রশ্ন- কোন কথা স্মরণ করে অনুপমের মামা ও মা এক যোগে বিস্তর হাসিলেন?
উত্তর: গায়ে হলুদে কনের বাড়িতে যে সংখ্যক বাহক গিয়েছিল তাদের আপ্যায়নে কল্যাণীদের কিরকম নাকাল হতে হবে সে কথা স্মরণ করে অনুপমের মামা ও মামা একযোগে বিস্তর হাসিলেন।
প্রশ্ন- রবীন্দ্রনাথের অপরিচিতা গল্পের মূল সুর কি?
উত্তর: দৃঢ় চেত নারী ব্যক্তিত্বের জাগরন ও ও পুরুষতন্ত্রের অমানবিকতার স্ফুরণ।
প্রশ্ন- অপরিচিতা গল্পে কল্যাণীর মাঝে কোনটি দেখা যায়?
উত্তর: কল্যাণীর মাঝে দেশাত্মবোধ দেখা যায়।
প্রশ্ন- অপরিচিতা গল্পের বিশেষ দিক কোনটি?
উত্তর: অপরিচিতা গল্পে নারী ব্যক্তিত্বের জাগরণ ফুটে উঠেছে।
প্রশ্ন- কল্যাণীর বিয়েতেও স্বীকৃতি ও মেয়েদের শিক্ষা ব্রত গ্রহণ করায় পাঠকের চোখে তার কোন বৈশিষ্ট্য ধরা পড়েছে?
উত্তর: পাঠকের চোখে মূল্যবোধ ধরা পড়েছে।
প্রশ্ন- গজানন বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: গজানন বলতে গণেশ কে বোঝানো হয়েছে।
প্রশ্ন- অপরিচিতা গল্পে ফলের মতো গুটি বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: অনুপমের নিষ্ফল জীবন।
প্রশ্ন- রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কি ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: রক্তকরবী নাটক গ্রন্থ।
প্রশ্ন- অপরিচিতা গল্পের কথক এর বয়স কত ছিল?
উত্তর: ২৭ বছর বয়স।
প্রশ্ন- অনুপম কে শিমুল ফুলের সঙ্গে তুলনা করতেন কে?
উত্তর: পন্ডিতমশাই অনুপমকে শিমুল ফুলের সঙ্গে তুলনা করতেন।
প্রশ্ন- অপরিচিতা গল্পে অনুপমের সুন্দর চেহারাকে পণ্ডিতমশাই শিমুল ফলের সাথে তুলনা করেছিলেন কেন?
উত্তর: অন্তঃসারশূন্য বলে।
প্রশ্ন- আমার পুরোপুরি বয়স হইল না- কথাটি দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে?
উত্তর: অনুপমের পরমুখাপেক্ষী হওয়া ক বোঝানো হয়েছে।
প্রশ্ন- অপরিচিতা গল্পে মামার সাথে অনুপমের বয়সের পার্থক্য কত ছিল?
উত্তর: বছর ছয়েক।
প্রশ্ন- অনুপম কে সংসারের কোনো ভাবনাই ভাবতে হয় না কেন?
উত্তর: পরিবারে মামার প্রভাব থাকায়।
প্রশ্ন- ধনীর মেয়ে মামার অপছন্দ কেন?
উত্তর: মাথা উঁচু করে চলবে বলে।
প্রশ্ন- আসর জমাতে অদ্বিতীয় কে?
উত্তর: হরিশ আসর জমাতে অদ্বিতীয়।
প্রশ্ন- অপরিচিতা গল্পে রসিক মানুষটি কে?
উত্তর: হরিশ রসিক মানুষ।
প্রশ্ন- অপরিচিতা গল্পে কার পশ্চিমী লিয়ে বাস করার কথা উল্লেখ রয়েছে?
উত্তর: শম্ভুনাথ সেনের পশ্চিমে গিয়ে বাস করার কথা উল্লেখ রয়েছে।
প্রশ্ন- খাঁটি সোনা বটে বলতো দাদা কিসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন?
উত্তর: পাত্রীর উপযুক্ততাকে ইঙ্গিত করেছেন।
প্রশ্ন- কল্যানর বাবা বিয়ের কতদিন আগে অনুপমকে আশীর্বাদ করে যান?
উত্তর: ৩ দিন আগে!
প্রশ্ন- অপরিচিতা গল্পে খাদ হীন অলংকারের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য কোনটি?
উত্তর: বেঁকে যাওয়া।
প্রশ্ন- অপরিচিতা গল্পে বিয়ের একটা প্রধান অংশ কোনটি?
উত্তর: অপরিচিতা গল্পে দেনাপাওনা বিয়ের একটা প্রধান অংশ।
প্রশ্ন- মামার আদেশ অমান্য করার ক্ষমতা ছিল না কেন?
উত্তর: অনুপমের ব্যক্তিত্বহীনতার কারণে।
প্রশ্ন- অপরিচিতা গল্পে বিয়ের অনুষ্ঠানে গহনা মাপার মধ্য দিয়ে কি প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: হীনমন্যতা প্রকাশ পেয়েছে।
প্রশ্ন- শশুরের সামনে অনুপমের মাথা হেঁট করে রাখার কারণ কি?
উত্তর: মামার গহনা পরীক্ষার কারণে।
প্রশ্ন- অপরিচিতা গল্পে অনুপমের মামার মুখ লাল হয়ে উঠল কেন?
উত্তর: অপমানের কারণে।
প্রশ্ন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অপরিচিতা গল্পে অনুপমের বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার মূল কারণ কি?
উত্তর: অনুপমের মামার হীন ব্যবহারের কারণে।
প্রশ্ন- অনুপম কাকে নিয়ে তীর্থযাত্রা করেছিল?
উত্তর: তার মাকে নিয়ে তীর্থযাত্রা করেছিল।
প্রশ্ন- অপরিচিতা গল্পের সর্বাধিক আত্মমর্যাদা বোধ সম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে কাকে বিবেচনা করা যায়?
উত্তর: শম্ভুনাথ সেন কে।
প্রশ্ন- বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার কত বছর পরও অনুপম কল্যাণী আশা ছাড়েনি?
উত্তর: চার বছর।
প্রশ্ন- অপরিচিতা গল্পে অনুপম এর বৈশিষ্ট্য কি?
উত্তর: ব্যক্তিত্বহীন ও পরনির্ভরশীল।
প্রশ্ন- অপরিচিতা গল্পে কল্যাণীর মধ্যে কোন বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়?
উত্তর: সহজ গতি, নির্মল দীপ্তি ও শুচিশুভ্র সৌন্দর্য।
প্রশ্ন- কল্যানির বাবা পাত্রপক্ষকে বিদায় করে দেওয়ার কারণ কি?
উত্তর: অনুপমের ব্যক্তিত্বহীনতার এবং মামার হীনমন্যতার কারণে।
প্রশ্ন- গজানন এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
উত্তর: গজ আনন যার।
প্রশ্ন- ফাল্লু বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ভারতের গোয়া অঞ্চলের অন্তঃসলিলা নদী।
প্রশ্ন- অপরিচিতা গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকায়?
উত্তর: সবুজপত পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
প্রশ্ন- অপরিচিতা গল্পের লেখক কে?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
প্রশ্ন- অনুপমের পিসতুতো ভাইয়ের নাম কি?
উত্তর: অনুপমের পিসতুতো ভাইয়ের নাম- বিনু।
অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন
অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন পড়া জরুরী। অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্নের পাশাপাশি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন পড়লে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা সম্ভব। তাই এবার অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন হতে অনুধাবনমূলক প্রশ্ন পরব।
প্রশ্ন- 'বাংলাদেশের মধ্যে আমিই একমাত্র পুরুষ যাহাকে কন্যার বাপ বিবাহ বাসর হইতে নিজে ফিরাইয়া দিয়াছে' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: বিয়ের দিনে অনুপমের ব্যক্তিত্বহীনতার পরিচয় পেয়ে শম্ভুনাথ সেন কল্যানীর সাথে তার বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়ার মতো অভাবনীয় কাণ্ডে অনেকটা হতবিহবল হয়ে অনুপম একথা বলেছে।
অনুপমের বিয়ের লগ্ন উপস্থিত হলে তার লোভী মামা কল্যাণীর বাবার কথায় আস্থা না রেখে, বিয়ের আগেই সমস্ত গহনা সেকরা দিয়ে পড়াতে চান। আর এসময় অনুপম কোন প্রতিবাদ না করায়, শম্ভুনাথ অপমানিত বোধ করেন এবং কন্যাদান অসম্মতি জ্ঞাপন করেন। এরকম ঘটনা সচরাচর লক্ষ্য করা যায় না। এরূপ পরিস্থিতিতে শম্ভুনাথ সেন অনুপমের অপমান বোঝাতেই উক্তিটির উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশ্ন- 'এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি' ব্যাখ্যা করো?
উত্তর: প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে অনুপম কল্যাণী এর কাছাকাছি থাকা বলতে তার হৃদয়ে জায়গা পাওয়ার কথা বুঝিয়েছ।
কানপুরে পৌঁছে কল্যাণীর পরিচয় জানতে পেরে অনুপমের হৃদয় আবারো কল্যাণীর চিন্তায় আছন্ন হয়। বিয়ে করতে চাইলেও কল্যাণী রাজি হয়না। কল্যাণীর কাছাকাছি থাকার জন্য কানপুর এ বসবাস করতে শুরু করে। সুযোগ পেলেই সে কল্যানীর কাজে সাহায্য করে। আর ভাবে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাইনি কিন্তু কাছে থাকার সুযোগ টুকুই বা কম কিসে।
প্রশ্ন- 'মেয়ের চেয়ে মেয়ের বাপের খবরটাই তাহার কাছে গুরুতর' উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: বিয়েতে কল্যাণীর যোগ্যতার চেয়ে তার পিতা শম্ভুনাথ কি পরিমাণ পন দিতে সক্ষম অনুপমের মামার কাছে সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
হরিশ অনুপমের মামার কাছে অনুপমের জন্য পাত্রীর সন্ধান দেয়। পাত্রীর কথা জানার চেয়ে মামর কাছে পাত্রীর বাবার বিষয়-সম্পত্তির ব্যাপারে জানার বেশি আগ্রহ দেখা যায়। রূপ গুণ নয় বরং তার বাবার আর্থিক সক্ষমতার মানদণ্ডে পাত্রীর যোগ্যতা যাচাই করে । অনুপমের মামা আলোচ্য উক্তিটিতে অনুপমের মামার যৌতুক প্রবণতা প্রকাশ হয়েছে।
প্রশ্ন- 'একেতো বরের হাট মহার্ঘ, তাহার পরে ধনুক ভাঙ্গা পণ' এই কথাটির অর্থ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: ১৫ বছর বয়সেও কল্যাণীর বিয়ে না হওয়ার কারণ নির্দেশ করা হয়েছে উক্তিটির মাধ্যমে।
কল্যাণীর বয়স ১৫ বছর যা তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থায় বিয়ের যোগ্য কন্যার জন্য অনেকটাই বেশি। মোটা টাকা যৌতুক দিতে হয় বলে সুপাত্র মেলায় ভার। তবে এ ব্যাপারে কল্যাণীর বাবা চিন্তিত নন। বয়স যতই হোক উপযুক্ত পাত্র ছাড়া কন্যার বিয়ে না দিতে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তখনকার সমাজে কন্যার পিতার মনোভাবের প্রকাশ ঘটাতে সাধারণত দেখা যেত না।
প্রশ্ন- 'অন্নপূর্ণার কোলে গজানোর ছোটো ভাইটি' উক্তিটি ব্যাখ্যা করো?
উত্তর: প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে ব্যাঙ্গার্থে দেবতা কার্তিকের সঙ্গে অনুপমের তুলনা করা হয়েছে।
দেবী দুর্গার দুই পুত্র অগ্রজ গণেশ ও কার্তিক। দেবী দুর্গার কোলে দেবসেনাপতি কার্তিক অপূর্ব সভায় ভাস্কর। বড় হয়েও অনুপম কার্তিকের মত মায়ের কাছাকাছি থেকে মাতৃ আজ্ঞা পালনে ব্যস্ত থাকে। তাই পরিণত বয়সেও তার স্বাধীন ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে না। অপরাচিতা গল্পের অনুপম পরিবারের কাছে অসহায় ও ব্যক্তিত্বহীন একটি চরিত্র। উচ্চ শিক্ষিত হলেও তার নিজস্ব তা বলতে কিছু নেই। তাকে দেখলে মনে হয় আজও সে যেন মায়ের কোলে থাকা শিশুমাত্র। এজন্য অনুপম কে কার্তিকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
প্রশ্ন- অনুপমের বিবাহ যাত্রার বর্ণনা দাও।
উত্তর: অনুপম মহাসমারোহে সাথে বিবাহ করতে গিয়েছিল।
ধনীর ঘরের ছেলে অনুপম। তাই তার বিয়েতে ছিলো অভিজাতদের ছোঁয়া। ব্যান্ড, বাঁশি, কনসার্ট কোনো কিছুরই কমতি ছিল না। দামি পোশাক ও বাহারি গহনা জড়ানো ছিল। অনুপমের শরীর কে দেখে মনে হচ্ছিল সে যেন ভাবি শ্বশুরের সঙ্গে আভিজাত্যের মোকাবেলা করতে বিয়ের আসরে যাচ্ছে।
প্রশ্ন- অনুপমের মামার মন কিভাবে নরম হইলো?
উত্তর: অপরিচিতা গল্পের হরিশ অনুপমের মামার কাছে কল্যাণী ও তার পরিবারের প্রশংসা করার ফলে মামার মন নরম হলো।
বিয়ের পাত্রী তথা কল্যাণীর পারিবারিক অবস্থা বংশমর্যাদার ব্যাপারে অনুপমের মামাকে বিশদ বর্ণনা দেয় হরিশ। এসব কথা শুনে তিনি আশ্বস্ত হলেও কল্যাণীর বয়স বেশি মনে করে বিয়ে নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হন। কিন্তু কথা দ্বারা মানুষের মনকে প্রভাবিত করার বিশেষ গুণ। তাইতো পর তার কাছ থেকে পাত্রী ও তার পরিবারের বিষয় নির্ভরযোগ্য প্রশংসা বাক্য শুনে আমার মন নরম হয়েছিল।
প্রশ্ন- অনুপমের মামা সেকরাকে বিয়ে বাড়িতে এনেছিল কেন?
উত্তর: অনুপমের মামা যৌতুকলোভী ও হীন মানসিকতার মানুষ হওয়ায় বিয়ের গহনা পরীক্ষা করতে সেকরাকে বিয়ে বাড়িতে এনেছিল।
কল্যাণীর বিয়েতে তার বাবা শম্ভুনাথ সেন নগদ এর সঙ্গে অনেক গহনা দেয়। অনুপমের মামার শম্ভুনাথ সেন এর কথায় আস্থাশীল ছিলেন না। গহনা দেবে তা আসল না নকল সেটি পরীক্ষা করার জন্য তিনি বিয়েবাড়িতে সেকরাকে সঙ্গে এনেছিলে।
প্রশ্ন- কন্যার পিতা মাত্রই স্বীকার করবেন আমি সৎপাত্র- কেন?
উত্তর: অপরিচিতা গল্পে অনুপম কে মাতৃ আজ্ঞাবহ, নিরীহ এক চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ভালো মানুষ হওয়ার কোন ঝঞ্ঝাট না থাকায় অনুপম স্বভাবতই একজন ভালো মানুষ। অনুপাম মায়ের আদেশ যথাযথভাবে পালন করে। এমনকি সে তামাত পর্যন্ত খায় না। আমাদের সমাজে বিয়ের প্রসঙ্গে সৎপাত্র সম্পর্কে ধারণা পোষণ করা হয়। এ সকল বৈশিষ্ট্য তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই অনুপম বিশ্বাস কন্যার পিতা মাত্রেই স্বীকার করবেন যে সে সৎপাত্র।
প্রশ্ন- 'অথচ সেই না চেনা টুকু যে কুয়াশা মাত্র সেজে মায়া' বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: অপরিচিতা গল্পের কথক অনুপম কল্যাণী সম্পর্কে আলোচ্য উক্তিটি করছিল।
অনুপম তার মাকে নিয়ে তীর্থে যাওয়ার পথে 'গাড়িতে জায়গা আছে' বলা এক নারী কন্ঠে মধুময় মনে করলো। সে মায়াময়ী কণ্ঠস্বরের নারীকে সে দেখেনি। অচেনা সেই নারীটি তার হৃদয়ে আসন গেড়ে বসেছে। সে তাকে দেখতে চাই, চিনতে চাই, কিন্তু সেই নাচেনা টুকু যে কুয়াশা মাত্র, সে যে মায়া। সেই চেনার আর অন্ত থাকবে না এমন আবেগময় চেতনা প্রকাশ পেয়েছে অনুপমের হৃদয় জুড়ে। কল্যাণীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আকুল আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত হয়েছে আলোচ্য উক্তিটিতে।
আমাদের শেষ কথা:
অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন জানার পাশাপাশি অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন জানলাম। অপরিচিতা গল্পের mcq পড়ার পরে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন পড়ত হবে। এরপর অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন পড়লে ভাল ফলাফল করার সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ। তাই অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন হতে অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন করলাম। আশা করি আপনাদের উপকার হবে। ভাল লাগলে কমেন্ট করে জানাবেন।
ধন্যবাদ ভাই
সৃজনশীল প্রশ্ন গুলো দিলে উপকার হবে