মানব কল্যাণ hsc mcq | মানব কল্যাণ প্রবন্ধ mcq

মানব কল্যাণ hsc mcq: মানব কল্যাণ প্রবন্ধটি রচনা করেন আবুল ফজল ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে। মানব কল্যাণ প্রবন্ধটি প্রথম 'মানবতন্ত্র' গ্রন্থে সংকলিত হয়। এই রচনায় লেখকের মানব কল্যাণ ধারণাটির তাৎপর্য বিচারে সচেষ্ট হয়েছেন। সাধারণভাবে অনেকে গরিব মানুষকে দয়া করে দান-খয়রাত করাকে মানবকল্যাণ মনে করেন। কিন্তু আবুল ফজলের মতে এই ধারণা খুবই সংকীর্ণ মনের পরিচয় বহন করে। আবুল ফজলের মতে মানব কল্যাণ হলো মানুষের সার্বিক মঙ্গলের প্রয়াস।

মানব কল্যাণ প্রবন্ধ mcq ভালোভাবে পড়লে সঠিক উত্তর দেওয়া সম্ভব। মানব কল্যাণ প্রবন্ধটি মানুষের মানবিক দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। মানব কল্যাণ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর পড়ার আগে মানবকল্যাণ hsc mcq পড়লে সুবিধা হবে। 

মানব কল্যাণ hsc mcq 

মানব কল্যাণ hsc mcq
মানব কল্যাণ hsc mcq 

মানব কল্যাণ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর এ ভালো নাম্বার পেতে জ্ঞান মূলক প্রশ্ন করা জরুরি। মানব কল্যাণ mcq ভালোভাবে পড়লে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন সহজে উত্তর দেওয়া যায়। মানব কল্যাণ প্রবন্ধের mcq জ্ঞানমূলক প্রশ্ন সৃজনশীল প্রশ্ন ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।

মানব কল্যাণ hsc mcq গুলো আমরা জ্ঞানমূলক আকারে পড়ব। মানব কল্যাণের বহুনির্বাচনী প্রশ্ন গুলোতে চারটি অপশন থাকে কিন্তু আমরা কোন অপশন না দিয়ে শুধু প্রশ্ন এবং উত্তর টি জানবো। তাহলে আমাদের সময় বাঁচবে এবং তাড়াতাড়ি অনেক পড়তে পারব।

প্রশ্ন- প্রাবন্ধিক আবুল ফজল কত খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: আবুল ফজল ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন- আবুল ফজলের জন্মতারিখ কোনটি?
উত্তর: পহেলা জুলাই।

প্রশ্ন- মানবতন্ত্র গ্রন্থটির লেখক কে?
উত্তর: মানবতন্ত্র গ্রন্থটির লেখক আবুল ফজল।

প্রশ্ন- এক মুষ্টি ভিক্ষা দেওয়া কেও আমরা মানবকল্যাণ মনে করি কেন?
উত্তর: উপলদ্ধি হীনতার কারণে।

প্রশ্ন- কোন কাজ মনুষত্ববোধ ও মানব মর্যাদা কে ক্ষুন্ন করে?
উত্তর: ভিক্ষা প্রদান করা মানব কল্যাণ কে ক্ষুন্ন করে।

প্রশ্ন- কোন বিষয়টি আমাদের উপলব্ধি করা হয়না?
উত্তর: মানব মর্যাদা কে ক্ষুন্ন করা।

প্রশ্ন- মানব কল্যাণ প্রবন্ধ উপরের হাত বলতে কাকে বুঝিয়েছেন?
উত্তর: উপরের হাত বলতে দাতা কে বোঝায়।

প্রশ্ন- দান বা ভিক্ষা গ্রহণকারীদের মাঝে কোনটি প্রতিফলিত হয়?
উত্তর: দীনতা প্রতিফলিত হয়।

প্রশ্ন- ভিক্ষা গ্রহণকারীর দীনতা কোথায় প্রতিফলিত হয়?
উত্তর: সর্ব অবয়বে প্রতিফলিত হয়।

প্রশ্ন- মানব কল্যাণ প্রবন্ধ এ মনুষত্ব আর মানব মনের দিক থেকে অনুগ্রহকারী আর অনুগ্রহ গ্রহীতার মধ্যে পার্থক্য কেমন?
উত্তর: আকাশ পাতাল পার্থক্য।

প্রশ্ন- মানব কল্যাণ অনুযায়ী কোনটি জাতির যৌথ জীবন আর যৌথ চেতনার প্রতীক?
উত্তর: রাস্ট্র যৌথ জীবন ও যৌথ চেতনার প্রতীক।

প্রশ্ন- আবুল ফজলের মতে কখন রাষ্ট্র আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়?
উত্তর: যখন হাতপাতা আর চাটুকারিতা কে প্রশ্রয় দেয়।

প্রশ্ন- আবুল ফজল কোন কাজকে মানবকল্যাণ মনে করেন না?
উত্তর: করুনার বশবর্তী হয়ে দান-খয়রাত কে।

প্রশ্ন- মনুষত্ববোধ ও মানব মর্যাদা কে ক্ষুণ্ন করার বিষয়টি আমাদের উপলব্ধি করা হয় না কেন?
উত্তর: মানব কল্যাণ এর প্রকৃত তাৎপর্য বুঝতে না পারার কারণে।


প্রশ্ন- মানব কল্যাণ প্রবন্ধের আবুল ফজলের মতে, একটি রাষ্ট্র কিভাবে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি করতে পারে?
উত্তর: হাত পাতা ও চাটুকারিতা কে প্রশ্রয় না দেওয়ার মাধ্যমে।

প্রশ্ন- মানব কল্যাণ প্রবন্ধে মনুষ্যত্বের অবমাননা বলতে আবুল ফজল কি বুঝিয়েছেন?
উত্তর: মানুষের মর্যাদাবোধ ক্ষুন্ন হওয়া কে।

প্রশ্ন- মানব কল্যাণ এর উৎস মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি আর মানবিক চেতনা বিকাশের মধ্যেই নিহিত কেন?
উত্তর: মনুষত্ববোধ অর্জন সম্ভব হয় বলে।

প্রশ্ন- মানব কল্যাণ প্রবন্ধ এ করুনার বশবর্তী হয়ে দান খয়রাতের অসম্ভবই পরিণতি কি ছিল?
উত্তর: মনুষত্ব বোধের অবমাননা।

প্রশ্ন- মানব কল্যাণ প্রবন্ধটি বর্ণিত ভিক্ষুক কার কাছে ভিক্ষা চাইতে এসেছিল?
উত্তর: ইসলামের নবীর কাছে।
 
প্রশ্ন- মানব কল্যাণ প্রবন্ধে নবী ভিক্ষুককে কি দিয়েছিলেন?
উত্তর: কুড়াল দিয়েছিলেন।

প্রশ্ন- মানব কল্যাণ প্রবন্ধ অনুযায়ী মানুষকে কোন পথে বেড়ে উঠতে হবে?
উত্তর: মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে হবে।

প্রশ্ন- সমাজের ক্ষুদ্রতম অঙ্গ বা ইউনিট কোনটি?
উত্তর: পরিবার সমাজের ক্ষুদ্রতম ইউনিট।

প্রশ্ন- আবুল ফজলের মতে মানব কল্যাণ কি হতে পারে না?
উত্তর: স্বয়ম্ভু হতে পারেনা।

প্রশ্ন- মানব কল্যাণ প্রবন্ধের প্রতিটি মানুষকে কেমন হতে হবে?
উত্তর: প্রতিটি মানুষকে সামাজিক হতে হবে।

প্রশ্ন- প্রতিটি মানুষের মানব কল্যাণ কিসের সাথে সম্পর্কিত?
উত্তর: সমাজের ভালো-মন্দের সাথে।
 
প্রশ্ন- মানুষের মনুষত্ব কে বাদ দিয়ে স্রেফ তার জৈব অস্তিত্বের প্রতি সহানুভূতিশীল মানব কল্যাণ কি হতে পারে না?
উত্তর: ফলপ্রসূ হতে পারেনা।

প্রশ্ন- লেখক এর মতে মানব কল্যাণের কোন রূপ দেখার জন্য দূর-দূরান্তে যাওয়ার প্রয়োজন নেই?
উত্তর: কুৎসিত রূপ দেখার জন্য দূর-দূরান্তে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

প্রশ্ন - আবুল ফজলের মতে মানব কল্যাণের কোন রূপ আমাদের আশেপাশে সারা দিকে তাকালেই দেখা যায়?
উত্তর: কুৎসিত রূপ।

প্রশ্ন- কোন মনোভাব নিয়ে মানুষের কল্যাণ করা যায় না?
উত্তর: বিভক্তিকরণের মনোভাব।

প্রশ্ন- কোন পথে মানুষের কল্যাণ করা যায়?
উত্তর: সমতা আর সংযোগ সহযোগিতার পথে।

প্রশ্ন- সত্যিকারের মানবকল্যাণ কিসের ফসল?
উত্তর: মহৎ চিন্তাভাবনার ফসল।

প্রশ্ন- বাংলাদেশের মহৎ প্রতিভার সবাই কিসের উত্তরাধিকার রেখে গেছেন?
উত্তর: মানবিক চিন্তা ও আদর্শের উত্তরাধিকার।

প্রশ্ন- "তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন" এই উক্তিটি কার?
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র ।


প্রশ্ন- অন্তর জগতের বাইরে যেয়ে জগতকে আমরা অহরহ দেখতে পায় তার মৌলিক সত্য কি?
উত্তর: পারস্পরিক সংযোগ সহযোগিতা।

প্রশ্ন- কোন সম্পর্কের অভাব ঘটলে মানব কল্যাণ কথাটা স্রেফ ভিক্ষা দেওয়া নেওয়ার সম্পর্কে পরিণত হয়?
উত্তর: পারস্পারিক সহমর্মিতার, পারিবারিক সংযোগ সহযোগিতার।

প্রশ্ন- এক জাগতিক মানবধর্ম বলতে আবুল ফজল কি বুঝিয়েছেন?
উত্তর: মানব কল্যাণ কি বুঝিয়েছেন।

প্রশ্ন- পৃথিবীতে বর্তমানে দুষ্ট অবহেলিত বাস্তুহারা স্বদেশ বিতাড়িত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে কেন?
উত্তর: মানুষের স্বাভাবিক অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার অভাবে।

প্রশ্ন- মানব কল্যাণ মানব অপমানে পরিণত হয় কিভাবে?
উত্তর: মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা না হলে।

প্রশ্ন- রেডক্রস কোন ধরনের সংস্থা?
উত্তর: সেবাধর্মী সংস্থা।

প্রশ্ন- আবুল ফজলের মতে আমরা বর্তমানে কিসের অংশ?
উত্তর: বৃহত্তর মানবতার।

প্রশ্ন- আবুল ফজলের মতে স্রেফ কি দ্বারা মানব কল্যাণ সাধিত হয় না?
উত্তর: শুধু সদিচ্ছা দ্বারা সাধিত হয় না।

প্রশ্ন- মানব কল্যাণ প্রবন্ধ মতে সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে কিভাবে?
উত্তর: নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে মোকাবেলা করতে হবে।

প্রশ্ন- লেখক এর দৃষ্টিতে মানবকল্যাণ হতে পারেনা কোনগুলো?
উত্তর: সম্পর্করহিত, বিচ্ছিন্ন, স্বয়ম্ভু।

প্রশ্ন- কিভাবে মানব কল্যাণ করা যায়?
উত্তর: সমতার পথে ও সহযোগ সহযোগিতার পথে।

প্রশ্ন- কিভাবে মানব কল্যাণ মানব অপমানে পরিণত হয়?
উত্তর: মানুষ তার স্বাভাবিক অধিকার অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে ও মানুষ তার ময়দার স্বীকৃতি না পেলে।

প্রশ্ন- মনীষা শব্দের অর্থ কি?
উত্তর: বুদ্ধি।

প্রশ্ন- রেশনাল শব্দের আভিধানিক অর্থ কি?
উত্তর: বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন

প্রশ্ন- মানব কল্যাণ প্রবন্ধটি কত খ্রিস্টাব্দে রচিত?
উত্তর: ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে রচিত।


প্রশ্ন- মানব কল্যাণ প্রবন্ধটি লেখক এর কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: মানবতন্ত্র গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন- আবুল ফজলের মতে মানব কল্যাণ কি?
উত্তর: মানুষের সার্বিক মঙ্গলের প্রয়াস।

প্রশ্ন- মানব কল্যাণ প্রবন্ধের মূল কথা কি?
উত্তর: মর্যাদাপূর্ণ অবস্থায় মানুষের উত্তরণ।

প্রশ্ন- সকল অবমাননাকর অবস্থান থেকে মরণাপন্ন অবস্থায় মানুষের উত্তরণ ঘটানো কিভাবে সম্ভব?
উত্তর: মানুষের সার্বিক মঙ্গল সাধন এর মাধ্যমে

প্রশ্ন- সংকীর্ণ মনোভাবের পরিচায়ক বলতে প্রাবন্ধিক কোনটিকে নির্দেশ করেছেন?
উত্তর: করুণা বসত দান-খয়রাত করাকে।

মানব কল্যাণ প্রবন্ধ mcq

মানব কল্যাণ প্রবন্ধের mcq পড়ার পাশাপাশি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন পড়তে হবে। মানব কল্যাণের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর এ ভালো নম্বর পেতে এমসিকিউ এর পাশাপাশি মানব কল্যাণের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন গুলোর উত্তর জানা খুবই প্রয়োজন। কেননা মানবকল্যাণ প্রবন্ধ থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন আসলো জ্ঞানমূলক, নৈব্যক্তিক, অনুধাবনমূলক সবকিছুই লিখতে হবে। তাই মানবকল্যাণের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন গুলো পড়লে অনেক উপকার হবে। এবার আমরা মানবকল্যাণ প্রবন্ধের অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর জানব। 

প্রশ্ন- মনুষত্ববোধ ও মানব মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টি মানুষের উপলব্ধি করা হয় না? কেন ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মানব কল্যাণ কথাটাকে সস্তা আর মামুলি অর্থে ব্যবহার করার কারণে মনুষত্ববোধ ও মানব মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টি মানুষের উপলব্ধি করা হয় না।
আমাদের প্রচলিত ধারণা ও চলতি কথায় মানব কল্যাণ কথাটা অনেকখানি সস্তা আর মামুলি অর্থেই ব্যবহৃত হয়। এ কারণে মানুষ মানব কল্যাণ কথাটার প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়। আর এক মুষ্টি ভিক্ষা দেওয়ার মতো ক্ষুদ্রকায় মানব কল্যাণ বলে মনে করে। অথচ এতে প্রকৃতপক্ষে মনুষত্ববোধ ও মর্যাদার অপমান ঘটে। তাই বলা যায় মানব কল্যাণ কথাটার ভুল অর্থ করার কারণেই মনুষত্ববোধ ও মানব মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টি মানুষের উপলব্ধি করা হয় না।

প্রশ্ন- মানব কল্যাণের প্রকৃত স্বরূপ কি?
উত্তর: মানব কল্যাণ প্রবন্ধের লেখক মানব কল্যাণের প্রকৃত স্বরূপ উপস্থাপন করেছেন। তিনি মনে করেন আমাদের বর্তমান সমাজে মানব কল্যাণ শব্দটি অনেকেই ভুল অর্থে ব্যবহার করে থাকেন। অনেকে করুণার বশবর্তী হয়ে দান-খয়রাত করাকেও মানবকল্যাণ মনে করে থাকেন। অথচ এটি প্রকৃতপক্ষে মান-মর্যাদার অবমাননা। তিনি মনে করেন মানুষের সার্বিক মঙ্গলের প্রায়শই হলো প্রকৃত মানব কল্যাণ। আলোচ্য প্রবন্ধের আলোকে বামদিকের বিষয়বস্তু আমাদের সমাজে প্রচলিত আর ডান দিকের বিষয়বস্তু প্রকৃত মানব কল্যাণ মানবকল্যাণের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি মানব কল্যাণ এর অর্থ অর্থাৎ ব্যবহার করছে।

প্রশ্ন- মানব কল্যাণ মানব অপমানে পরিণত হয়েছে কিভাবে?
উত্তর: মানুষের স্বাভাবিক অধিকার আর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ছাড়া মানবকল্যাণ মানব অপমানে পরিণত হয়।
আবুল ফজল বর্তমান পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখতে পান দুস্থ, অবহেলিত, বাস্তুহারা, স্বদেশ বিতাড়িত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। আবার রিলিফ রিহেবিলিটেশন প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার বাড়ছে।  তিনি আরও প্রত্যক্ষ করেন রেডক্রস এর মত সেবাধর্মী সংস্থার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এগুলোকে তিনি এক ধরনের মানব অপমান বলে মনে করেন। কারণ এসবের মাধ্যমে কখনোই প্রকৃত মানব কল্যাণ সাধিত হয় না। এগুলো মানুষকে ছোট করে রাখার কৌশল ছাড়া কিছু নয়। সুতরাং মানুষের স্বাভাবিক অধিকার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ছাড়া মানবকল্যাণ মান অভিমানে পরিণত হয়।

প্রশ্ন- লেখক এর মতে শ্রেষ্ঠ মানব কল্যাণ কোনটি? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মানুষের ভেতরে এক অসীম অনন্ত সম্ভাবনার বীজ রয়েছে, তা স্ফুরণ স্ফুটনের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্র রচনা করাই হলো শ্রেষ্ঠতম মানব কল্যাণ।
মানুষের প্রাণ আছে অন্য প্রাণীর দেহে প্রাণ আছে। অন্য প্রাণী থেকে মানুষের পার্থক্য হল, মানুষের ভেতরে রয়েছে এক অনন্ত সম্ভাবনার বীজ। যা অন্য প্রাণীর ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। মানুষের ভেতরেই সম্ভাবনাময় বীজের পরিপুষ্টি ও বিকাশ সাধন করা হলো মানুষের শ্রেষ্ঠ পরিচায়ক। আর এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে সাহায্য করাই হল শ্রেষ্ঠ মানব কল্যাণ।

প্রশ্ন- মানব কল্যাণ স্বয়ম্ভু বিচ্ছিন্ন সম্পর্করহিত হতে পারে না কেন?
উত্তর: প্রত্যেক মানুষ সমাজের সাথে নিবিড় ভাবে সম্পর্কিত। ফলে মানুষের কল্যাণে সামগ্রিকভাবে সমাজের ভাল-মন্দের উপর নির্ভর করে। কিন্তু সমাজে মানব কল্যাণ কথাটি সংকীর্ণ অর্থে ব্যবহৃত হয়। মূলত উপলদ্ধি হীনতার কারণেই এমনটা হয়ে থাকে। সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে কখনো মানব কল্যাণ সাধিত হতে পারে না। প্রকৃত মানব কল্যাণ সাধিত হবে যখন সমাজের সকল কল্যাণ একসাথে হবে । আর এ কারণেই মানবকল্যাণ স্বয়ম্ভূ সম্পর্করহিত হতে পারে না।

প্রশ্ন- মানব কল্যাণের প্রাথমিক সোপান বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মানব কল্যাণের প্রাথমিক সোপান বলতে মানুষকে মানুষ হিসাবে এবং মানবিক বৃত্তির বিকাশের পথে বেড়ে ওঠার যথাযথ ক্ষেত্র রচনা কে বোঝানো হয়েছে।
মানুষকে মানুষ হিসাবে এবং মানবিক বৃত্তির বিকাশের পথে বেড়ে উঠতে হবে। এর জন্য যেটা প্রয়োজন সেটা হল যথাযথ ক্ষেত্র রচনা। কারণ উপযুক্ত ক্ষেত্র বা পরিবেশ গড়ে তোলা না হলে মানব কল্যাণ সাধিত হবে না। আর এ দায়িত্ব যেমন পরিবারের রয়েছে তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্র সে দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। মূলত সমাজ ও রাষ্ট্রের উপরেই এ দায়িত্ব অধিক পরিমাণে বর্তায়। তাই মানবকল্যাণের প্রাথমিক বলতে মানুষকে মানুষ হিসাবে এবং মানবিক বৃত্তির বিকাশের পথে এই বেড়ে ওঠার যথাযথ ক্ষেত্রকেই বোঝানো হয়েছে। লেখক এর মতে অন্যকে ছোট করে তা কখনো মানুষ হতে পারে না তার মতে মানুষ তাদের কোনদিনও তার কারণেই মানবকল্যাণের মতো মহৎ শব্দের অর্থ করে থাকে।

প্রশ্ন- 'অনুগ্রহকারী ও অনুগৃহীতের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ' কেন তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের চরিত্র হওয়ায় অনুগ্রহকারী আর অনুগৃহীত মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ।
যিনি দান করেন তিনি অনুগ্রহকারী অপরদিকে জিনিসেই দান গ্রহণ করেন তিনি অনুগৃহীত ব্যক্তি। উভয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ বিপরীত ধর্মী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। একজন ইতিবাচক-নেতিবাচক আর এ কারণেই তাদের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ।

প্রশ্ন- "সে সোপান রচনায় সমাজ আর রাষ্ট্রের দায়িত্ব'' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: সে সোপান রচনায় সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলতে মানবকল্যাণের প্রাথমিক সোপান কে বোঝানো হয়েছে।
মানব কল্যাণ তখনই সাধিত হবে যখন মানুষ প্রকৃত মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে পারবে। আর এর জন্য প্রয়োজন যথাযথ ক্ষেত্র রচনা। যে ক্ষেত্র রচনার প্রধান দায়িত্ব সমাজ ও রাষ্ট্রের। লেখক বলেছেন মানবকল্যাণের প্রাথমিক সোপান প্রস্তুত থাকলেই সমাজে ও রাষ্ট্রে প্রকৃত মানব কল্যাণ সাধিত হবে বলে লেখক মনে করেন ।  প্রশ্ন কথাটির দ্বারা এ বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।

প্রশ্ন- কিভাবে কল্যাণময় পৃথিবী রচনা সম্ভব বলে প্রাবন্ধিক মনে করেন?
উত্তর: প্রাবন্ধিক মনে করেন মুক্তবুদ্ধি চর্চার মাধ্যমে সুপরিকল্পিত পথে কল্যাণময় পৃথিবীর রচনা সম্ভব।
মানব কল্যাণ প্রবন্ধের লেখক মানবকল্যাণের প্রকৃত তাৎপর্য উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন অনেকে দুস্থ মানুষকে করুনাবসত দান খয়রাত করাকে মানবকল্যাণ বলে মনে করেন  কিন্তু লেখক এর মতে এমন কাজ সংকীর্ণ মনোভাবের পরিচায়ক কারণ এভাবে কখনোই কল্যাণময় সম্ভব নয়। তার মতে মানুষের সার্বিক মঙ্গলের প্রায় সেই হল মানব কল্যাণ অর্থাৎ সকল অবমাননাকর অবস্থা থেকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থায় মানুষের উত্তরণ ঘটানো মানবকল্যাণ  তাই প্রাবন্ধিকের বিশ্বাস মুক্তবুদ্ধি চর্চার মাধ্যমে পরিকল্পনামাফিক পথেই মানব কল্যাণ কল্যাণময় পৃথিবী রচনা করা সম্ভব।


প্রশ্ন- দুঃখের বিষয় বলতে প্রাবন্ধিক কি বুঝিয়েছেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আমরা যে বাংলাদেশের মহৎ প্রতিভাদের রেখে যাওয়া আদর্শের উত্তরাধিকার কে জীবনে প্রয়োগ করতে পারেনি দুঃখের বিষয় বলতে প্রাবন্ধিক এ বিষয়টি বুঝিয়েছেন।
সত্যিকারের মানব কল্যাণ মহৎ চিন্তা ভাবনার ফসল। যুগে যুগে বাংলাদেশে অনেক মহৎ প্রতিভার জন্ম হয়েছে। তারা আমাদের জন্য মানবিক চিন্তা ও আদর্শের উত্তরাধিকার রেখে গেছেন। কিন্তু আমরা সেই আদর্শের পথে চলতে ব্যর্থ হয়েছি। দুঃখের বিষয় বলতে প্রাবন্ধিক এ বিষয়টি বুঝিয়েছেন।

আমাদের শেষ কথা

মানব কল্যাণ প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ mcq এবং অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। আশাকরি এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা মানব কল্যাণ প্রবন্ধটি mcq এর জ্ঞান মূলক প্রশ্ন ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন পড়ে উপকৃত হবে। ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

Please Share this On:

Next Post Previous Post
4 Comments
  • Sheikh Arman Hossain
    Sheikh Arman Hossain 23 February 2022 at 09:51

    তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন? উক্তিটা ভুল আছে

    • Admin
      Admin 24 February 2022 at 00:27

      Thanks for your feedback

    • Shahzalal Hossain
      Shahzalal Hossain 1 May 2022 at 06:26

      Welcome

  • Shahzalal Hossain
    Shahzalal Hossain 1 May 2022 at 06:27

    Sundor lekha

Add Comment
comment url