তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
তাহারেই পড়ে মনে কবিতাটি রচনা করেছেন সুফিয়া কামাল। তাহারেই মনে পড়ে কবিতাটি ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। বসন্ত প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য যে কবির মনে আনন্দের শিহরন জাগবে এবং তিনি কবিতা রচনা করবেন। কিন্তু একটি কারণে কবির মন বিষন্ন।
তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর পড়ার আগে কবিতাটি ভালোভাবে বুঝে পড়তে হবে। তাহলে সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সহজ হবে। তাহারেই পড়ে মনে কবিতাটির mcq এবং তাহারেই পড়ে মনে কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন পড়ে নিলে আরো ভাল হবে।
তাহারেই পড়ে মনে কবিতা নিয়ে আজকে আলোচনা করবো। আজকের আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে তাহারেই পড়ে মনে কবিতার যেসব বিষয়ে জানতে পারবেন তা হল:
- তাহারেই পড়ে মনে কবিতার ব্যাখ্যা
- তাহারেই পড়ে মনে কবিতার mcq
- তাহারেই পড়ে মনে mcq
- তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
- তাহারেই পড়ে মনে
তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
তাহারেই পড়ে মনে কবিতার ব্যাখ্যা বিষয়ও পড়ে নিতে পারেন। তাহলে আপনার জন্যই বুঝতে সুবিধা হবে। তাহারেই পড়ে মনে কবিতার ব্যাখ্যা পড়লে সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সহজ হবে। সুফিয়া কামালের স্বামী ছিল তার সাহিত্য সাধনার প্রধান সাহায্যকারী এবং উৎসাহদাতা। তার স্বামীর অকাল মৃত্যুতে তিনি প্রচন্ডভাবে হতাশাগ্রস্ত হন। তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তাই বসন্ত এলো সুফিয়া কামালের মনে এক বিষন্নতা কাজ করে।
তাহারেই পড়ে মনে কবিতার mcq প্রশ্ন এবং তাহারেই পড়ে মনে কবিতার ব্যাখ্যা আগে পড়তে হবে। তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর পড়ার আগে যদি এগুলো পড়ে নেই তাহলে খুবই ভালো হবে। সুফিয়া কামাল রচিত তাহারেই পড়ে মনে কবিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানব আজকে।
তাহারেই পড়ে মনে কবিতার ব্যাখ্যা
তাহারেই পড়ে মনে কবিতার ব্যাখ্যা জানলে কবিতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। তাই তাহারেই পড়ে মনে কবিতার ব্যাখ্যা আগে জেনে নেব, তারপরে তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পর্ব।
প্রকৃতিতে শীতের পর বসন্ত আসে এক নতুন রূপে। প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও কবির মনে আছে শীতের রিক্ত ও বিষন্ন ছবি। সুফিয়া কামালের মন ভারাক্রান্ত। তার কন্ঠ নিরব। শীতের করুণ বিদায়কে তিনি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। তাই বসন্ত সুফিয়া কামালের মনে সাড়া জাগাতে পারছে না। বসন্তের সৌন্দর্য তার কাছে অর্থহীন মনে হচ্ছে। কারণ সুফিয়া কামালের প্রথম স্বামী তার কাব্যসাধনার প্রেরণা। তার মৃত্যুতে গভীর ভাবে অন্তরে যে বিষন্নতা জাগে সে বিষয় সুস্পষ্ট ভাবে কবিতায় ফুটে উঠেছে।
তাহারেই পড়ে মনে কবিতাটি মূলত আপনজনকে হারানোর বেদনা নিয়ে লেখা। আপনজনকে হারানোর বেদনার কারণে কোনকিছুই কবির ভালো লাগছেনা। এ নিয়েই কবি এবং তার ভক্তের মাঝে আলোচনা হয় কবিতাটিতে।
তাহারেই পড়ে মনে কবিতার mcq | তাহারেই পড়ে মনে mcq
তাহারেই পড়ে মনে কবিতার mcq প্রশ্ন গুলো ভালোভাবে পড়লে সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব খুব সহজেই। কারণ mcq পড়লেই কবিতাটি সম্পর্কে অনেক ভাল ধারনা পাওয়া যাবে। তাহারেই পড়ে মনে কবিতাটি সম্পর্কে ভালো ধারণা পেতে mcq করার বিকল্প নাই।
প্রশ্ন- হে কবি নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়--- কবি কেন নিরব?
উত্তর: শীতের রিক্ততা ভুলতে পারছে না বলে
প্রশ্ন- তাহারেই পরে মনে কবিতায় কে, কাকে প্রশ্ন করেছে?
উত্তর: কবি ভক্ত কবি কে
প্রশ্ন- তাহারেই পড়ে মনে কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
উত্তর: মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকা
প্রশ্ন- তাহারেই পড়ে মনে কবিতার টির প্রধান গুণ কি?
উত্তর: নাটকীয়তা ও সংলাপ রীতি
প্রশ্ন- তাহারেই পড়ে মনে কবিতায় কবি কোন বিষয়ে তাৎপর্যময় অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন?
উত্তর: প্রকৃতি ও মানব মনের সম্পর্ক
প্রশ্ন- তাহারেই পড়ে মনে কবিতাটি কোন অর্থে সার্থক?
উত্তর: প্রকৃতি ও মানব মনের সম্পর্ক নিরূপণ
প্রশ্ন- সুফিয়া কামালের জীবনী শূন্যতা নেমে আসে কেন?
উত্তর: স্বামীর মৃত্যুতে
প্রশ্ন- তাহারেই পড়ে মনে কবিতা টির গঠনরীতি কোন বৈশিষ্ট্যের?
উত্তর: নাটকীয় গঠনরীতি
প্রশ্ন- তাহারেই পড়ে মনে কবিতাটি তে শীতকালকে মাঘের সন্ন্যাসী বলার কারণ কি?
উত্তর: শীতকাল খালি হাতে বিদায় নেয়
প্রশ্ন- তাহারেই পরে মনে কবিতায় পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে চলে গেছে কি?
উত্তর: মাঘের সন্ন্যাসী
প্রশ্ন- নিচের কোনটিতে সুফিয়া কামালের অভিমান প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: কহিল সে পরম হেলায়
প্রশ্ন- তাহারেই পরে মনে কবিতায় কোভিদ মন কিসে আসন্ন হয়ে আছে?
উত্তর: রিক্ততার হাহাকারে
প্রশ্ন- বসন্ত বন্দনা বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: বসন্তের স্বস্তি করা
প্রশ্ন- তাহারেই পরে মনে কবিতায় কার প্রতি কবির তীব্র বিমুখতা?
উত্তর: বসন্তের পুতি
প্রশ্ন- তাহারেই পড়ে মনে কবিতা একে অর্ঘ্য বিরচন করে?
উত্তর: বসন্ত
প্রশ্ন- ফুল কি ফোটেনি সাখে? কবিকে নিয়ে প্রশ্ন করেছেন?
উত্তর: অভিমান ও বিদ্রুপ করে
প্রশ্ন- উপেক্ষায় ঋতুরাজে কবিতায় বলে ভক্ত উল্লেখ করেছে?
উত্তর: ব্যথা
প্রশ্ন- কহিল সে কাছে সরে আসি-- তাহারেই পড়ে মনে কবিতার এ পঙক্তিতে কি প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: গোপনীয়তা প্রকাশ পেয়েছে
প্রশ্ন- তাহারেই পরে মনে কবিতায় লবে নাকি তব বন্দনায় বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: বন্দনা গান রচনা করে বসন্ত বরণ
তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
তাহারেই পড়ে মনে কবিতার আলোকে সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর পড়ব এবার। সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে তাহারেই পড়ে মনে কবিতার ব্যাখ্যা, তাহারেই পড়ে মনে কবিতার mcq গুলো ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে। তাহলে তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেওয়া সহজ হবে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ১: পৃথিবীতে জন্ম নেবার পর থেকেই মানুষের মধ্যে তৈরি হয় একটি মধুর সম্পর্ক, তার নাম ভালোবাসা। কিন্তু এই ভালোবাসার মাঝে আরও একটি বাস্তবতা হলো বিরহ-বিচ্ছেদ, আমরা কমবেশি সবাই জানি। আর এই বিরহ-বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হিসেবে ঘটনার অন্তরালে থাকে অনেক অজানা কাহিনি, যা বাস্তব জীবনের অগ্রগতিতে বাধ ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং জীবনের পথচলার গতি থামিয়ে দেয়।
ক. কীসের প্রতি কবির তীব্র বিমুখতা?
খ. 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রকৃতি ও মানবমনকে কীভাবে সম্পর্কিত করা হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের বক্তব্য কোন দিক বিবেচনায় 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার অনুগামী? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার ভাবসত্যকে সম্পূর্ণরূপে তুলে ধরতে পেরেছে কি? মতামত দাও।
১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক বসন্তের প্রতি কবির তীব্র বিমুখতা।
খ আলোচ্য কবিতায় শীতকালীন প্রকৃতির রিক্ত রূপের সঙ্গে ব্যক্তিহৃদয়ের শোকানুভূতির তুলনার মধ্য দিয়ে প্রকৃতি ও মানবমনকে সম্পর্কিত করা হয়েছে।
কবির প্রিয়তম স্বামীর মৃত্যু হয় শীতকালে। প্রিয়জনের এভাবে অকালে চলে যাওয়ার বিষয়টিকে শোকে মুহ্যমান কবি যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না। আর তাই সময় পরিক্রমায় প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও কবির মন জুড়ে থাকে বিদায়ী শীতের রিক্ততার ছবি। আলোচ্য কবিতাটিতে শীতের এই রিক্ততার সাথেই বিরহকাতর কবিমন যেন একাত্ম হয়ে উঠেছে। এভাবেই প্রকৃতির নিঃস্ব ও রিক্ত রূপের সঙ্গে শোকার্ত কবিমন সম্পর্কিত হয়ে উঠেছে।
গ. উদ্দীপকটি বিচ্ছেদবেদনার প্রসঙ্গ তুলে ধরার সূত্রে ' কবিতার অনুগামী।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের বেদনাঘন অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। কবির সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও উৎসাহদাতা স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের অকাল প্রয়াণে ভেঙে পড়েন তিনি। তাঁর সেই বেদনাদগ্ধ ও রিক্ত অভিব্যক্তিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে আলোচ্য কবিতাটি তে।
উদ্দীপকের বক্তব্যে পারস্পরিক ভালোবাসাকে মধুর বলে অভিহিত করা হয়েছে। তবে এই মধুর সম্পর্কের মাঝে বিচ্ছেদবেদনার একটি বিষয় থাকে বলে সেখানে মত প্রকাশ করা হয়েছে। এ কারণে অনেক সময় স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অগ্রগতিও স্তিমিত হয়ে পড়ে। একইভাবে, 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাতেও কবি তাঁর নিঃসঙ্গ জীবনের রিক্ততার অনুভূতিকে রূপায়িত করেছেন। প্রিয়তম স্বামীর বিরহ-বেদনায় কবির জীবনে ছন্দপতন ঘটে। তিনি । ডুবে যান সীমাহীন বিষণ্নতায়। অর্থাৎ আলোচ্য কবিতা এবং উদ্দীপক উভয় ক্ষেত্রেই বিচ্ছেদবেদনার প্রসঙ্গটি গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপিত হয়েছে। এদিক থেকে উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার অনুগামী।
ঘ. উদ্দীপকটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার ভাবসত্যকে সম্পূর্ণরূপে তুলে ধরতে পারেনি বলেই আমি মনে করি।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবিমন প্রিয়তম স্বামীর অকাল প্রয়াণের বেদনায় ভারাক্রান্ত। স্বামীর এই আকস্মিক মৃত্যুকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। এ কবিতায় শোকাচ্ছন্ন কবির এই হৃদয়যাতনার কথকতা বাণীরূপ পেয়েছে। এছাড়া প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের নিবিড় সম্পর্কের দিকটিও তাৎপর্যমণ্ডিত হয়ে উঠেছে কবিতাটিতে।
উদ্দীপকে বিচ্ছেদবেদনার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। সেখানে ভালোবাসার প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়েছে বিচ্ছেদকে। উদ্দীপকের বক্তা মনে করেন, ভালোবাসার সম্পর্কের মাঝে একটি রূঢ় বাস্তবতা হলো বিচ্ছেদবেদনা। অজানা নানা অনভিপ্রেত কাহিনি ও ঘটনাই এর মূল কারণ। পাশাপাশি এর দ্বারা স্বাভাবিক জীবনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। আলোচ্য কবিতাটিতেও এ বিষয়ে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়।
‘তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের দুঃখময় ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে। তাঁর সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক এবং প্রিয়তম স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে কবির জীবনে নেমে আসে দুঃসহ বিষণ্নতা। সে বিষণ্নতাকে কবি যেন কিছুতেই কাটিয়ে উঠতে পারছেন না। শোকাতুর কবিমনে তাই ঋতুরাজ বসন্তের মোহনীয় রূপ রেখাপাত করতে পারেনি। এছাড়া কবিতাটিতে বসন্ত-প্রকৃতির বর্ণনার মধ্য দিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কও উন্মোচিত হয়েছে। উদ্দীপকের বক্তব্যে আলোচ্য কবিতার বিচ্ছেদবেদনার দিকটি উঠে এলেও মানবমনের ওপর প্রকৃতির প্রভাবের দিকটি উপেক্ষিতই থেকে গেছে। সেদিক বিবেচনায় উদ্দীপকটি এ কবিতার ভাবসত্যকে সম্পূর্ণ তুলে ধরতে পারেনি।
সৃজনশীল প্রশ্ন ২: বাবার সংসারে লেখাপড়ার সুযোগ না পেলেও নিজের সংসারে এসে তাঁর অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ করেছেন। তাই পলান সরকারের মৃত্যু তাঁকে দ্বিতীয়বার কাঁদিয়েছে। মুঠোফোনে মলি রানী বলেন, “পলান সরকার সেদিন আমাকে বলেছিলেন, 'মা, তোমার আর পেছন ফিরে তাকানোর সময় নেই। তোমাকে এগিয়ে যেতে হবে।' সেইদিনই আমি ভেবে নিয়েছি, যেভাবেই হোক আমি পড়াশোনা শেষ করব। আমার বাড়িতে কোনো ছেলেমানুষ না থাকার কারণে আমি পলান সরকারকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যেতে পারিনি। কান্নাকাটি করেছি। সারাদিন খুব মন খারাপ ছিল।
ক. 'কুহেলি' শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘বসন্তের প্রতি কেন এই তীব্র বিমুখতা?’ কবিভক্তের এমন প্রশ্নের কারণ কী? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ‘তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার প্রতিফলিত দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. 'ভাবগত ঐক্য থাকলেও উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার সমগ্রতাকে ধারণ করে না'— বিশ্লেষণ করো।
২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. ‘কুহেলি’ শব্দের অর্থ কুয়াশা।
খ. প্রিয়জনের শোকে মুহ্যমান কবির নির্মোহ মনোভাব প্রত্যক্ষ করেই কবিভক্ত প্রশ্নোক্ত পঙ্ক্তিটির অবতারণা করেছেন।
শীতকালীন প্রকৃতি যেমন তার সজীবতা হারিয়ে রুক্ষমূর্তি ধারণ করেছে, তেমনি আপনজনের শোকে মুহ্যমান কবির চেতনাও যেন প্রিয়জনের চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিষণ্নতার রূপ পরিগ্রহ করেছে। অকালে অপ্রাপ্তি নিয়ে স্বজনের চলে যাওয়ার বিষয়টিকে তিনি যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। তাই সময়ের আবর্তনে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন ঘটলেও তা কবিমনে সাড়া জাগাতে পারেনি। বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেই কবিভক্ত আলোচ্য পক্তিটির মাধ্যমে প্রিয় কবির প্রতি প্রশ্ন রেখেছেন।
গ. উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রকাশিত শোকানুভূতির দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
‘তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় শীতকালীন প্রকৃতির অনুষঙ্গে ভর করে কবি ব্যক্তিহৃদয়ের বেদনাবোধের অসাধারণ প্রকাশ ঘটিয়েছেন। প্রিয়তম স্বামীর বিরহ বেদনা কবিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। কবিতাটিকে অবলম্বন করে কবি তাঁর সে যাতনাকে রূপায়িত করেছেন।
উদ্দীপকের মলি রানী একজন গৃহবধূ। শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে পলান সরকার ছিলেন তাঁর অনুপ্রেরণা। তাঁর উৎসাহেই মলি রানী পড়াশোনা শেষ করার জন্য মনস্থির করেন। আর তাই উৎসাহদাতা এ প্রিয় মানুষটির মৃত্যু তাঁকে কাঁদিয়েছে। একইভাবে সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও উৎসাহদাতা সৈয়দ নেহাল হোসেনের মৃত্যু আলোচ্য কবিতার কবির জীবনে ছড়িয়ে দিয়ে যায় দুঃসহ বিষণ্নতা। প্রিয়তম স্বামীকে হারানো শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি।
অর্থাৎ উদ্দীপকের মলি রানী এবং আলোচ্য কবিতার কবি উভয়ের ক্ষেত্রেই শোকানুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটিতে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রকাশিত শোকানুভূতির দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. উদ্দীপক এবং 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় শোকানুভূতি প্রকাশের দিক থেকে ঐক্য থাকলেও কবিতার সবটা উদ্দীপকে আসেনি বলেই প্রতীয়মান হয়।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি সুফিয়া কামালের ব্যক্তিজীবনের দুঃখময় ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে। কবির স্বামী এবং সাহিত্য সাধনার প্রধান উৎসাহদাতা সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যু কবিকে দুঃসহ বেদনায় ভারাক্রান্ত করে তোলে। প্রিয়জন হারানোর বিরহ বেদনায় জগৎ ও জীবনের প্রতি নির্মোহ হয়ে পড়েন কবি।
উদ্দীপকে মলি রানীর শোকানুভূতির কথা বর্ণিত হয়েছে। যখন তিনি সব আশা ত্যাগ করেছিলেন তখন পলান সরকারের কথাগুলোই তাঁকে পথ দেখিয়েছিল। তাঁর অনুপ্রেরণাই মলি রানীকে পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলেছিল। আর তাই পলান সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু তাঁকে ভারাক্রান্ত করে তুলেছে। আলোচ্য উদ্দীপকে মলি রানীর মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠা এই শোকানুভূতির দিকটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় আরও গভীর ভাবব্যঞ্জনা নিয়ে ধরা দিয়েছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির স্বামী ছিলেন তাঁর সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও উৎসাহদাতা। প্রাণপ্রিয় স্বামীর মৃত্যুতে তাঁর সুখময় জীবনের ছন্দপতন ঘটে। সংগত কারণেই তার মৃত্যুতে কৰি ভেঙে পড়েন। আর তাই বসন্ত এলেও কবিমনে শিহরন জাগে না, বরং রিক্ত শীতের করুণ বিদায়ের বেদনাবিধুর প্রকৃতির মতো কবির চেতনাও আচ্ছন্ন। হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে, উদ্দীপকের মলি রানীর শোকানুভূতির কারণ। পড়াশোনার উৎসাহদাতা পলান সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু। কবির স্বামী। বন চলার সাথি কবিতার প্রেরণা। তাই তার অকাল প্রয়াণ কবিকে। সীমাহীন বিষণ্নতায় নিমজ্জিত করেছে, যা মলি রানীর শোকের চেয়ে শতগুণে বেদনাদায়ক। অতএব, প্রশ্নোত্ত মন্তব্যটির ব্যাপারে দ্বিমতের অবকাশ নেই।
আরও পড়ুনঃ অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
সৃজনশীল প্রশ্ন ৩: ছবি আঁকা নবীনের নেশা ও পেশা। তাঁর ছবির বিশেষত্ব ছিল। উজ্জ্বল রং আর বিভিন্ন ধরনের রেখার সমাহার। কিন্তু এক দুর্ঘটনার পর পাল্টে যায় তাঁর ছবির ভাষা। জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তাঁর একমাত্র শিশুপুত্র মারা যায়। এরপর তিনি শহর ছেড়ে চলে যান গ্রামে। প্রকৃতির সঙ্গে মিশে গিয়ে তিনি যে ছবিগুলো আঁকেন তাতে উঠে আসে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ।
ক. 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় ‘হে কবি' বলে কে সম্বোধন করেছেন?
খ. 'বাতাবি নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?' উদ্ধৃতাংশটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের কোন দিকটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার চেতনা উপস্থাপনে উদ্দীপকটির সার্থকতা বিচার করো।
৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. ‘তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় ‘হে কবি' বলে কবিভক্ত সম্বোধন করেছেন।
খ. 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার থেকে উদ্ধৃত অংশটিতে শোকাচ্ছন্ন কবির জিজ্ঞাসার মধ্য দিয়ে বসন্তের আগমন সম্পর্কে তাঁর উদাসীনতা ব্যক্ত হয়েছে।
আলোচ্য কবিতায় প্রকৃতিতে বসন্ত তার রূপসম্ভার নিয়ে হাজির হয়েছে। চারদিকে বসন্তের আগমনী বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। কিন্তু কবি এসব আগমনী ধ্বনি শুনতে পাননি বা বসন্তের রূপসম্ভার লক্ষ করেননি। শীতের বিদায়ী স্মৃতি তাঁর অন্তরজুড়ে আছে। তাই বসন্তের সৌন্দর্য তাঁর মনকে। স্পর্শ করেনি। কবিভক্ত তাঁকে বসন্তের আগমনী বার্তা জানালে কবি তাই। নানারকম জিজ্ঞাসার মধ্য দিয়ে এ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চেয়েছেন।
গ. সুফিয়া কামাল রচিত 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মতো উদ্দীপকটিতেও প্রিয়জন হারানোর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
‘তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের দুঃখগাথা প্রকাশিত হয়েছে। কবিতায় কবি প্রিয়জন হারানোর ব্যথায় দুঃখ-ভারাক্রান্ত হয়েছেন এবং এ বিষয়টি বারবার তাঁর মনে জেগে উঠেছে। কবিতায় রূপায়িত মাঘের সন্ন্যাসীরূপী প্রিয়জনের বিদায়বেলার হাহাকার তাঁর মনে ধ্বনিত হয়েছে।
উদ্দীপকে নবীনের শোকার্ত হৃদয়ও তাঁর ছবির ভাষা বদলে দিয়েছে। ফলে আগের মতো রং ও রেখার উজ্জ্বল ছবির পরিবর্তে তিনি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দৃশ্যের প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়েছেন। উদ্দীপকে উল্লিখিত নবীনের সঙ্গে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির সাদৃশ্য হলো— ব্যক্তিগত জীবনের দুঃখ কবির মতো নবীনের সৃষ্টিকর্মের ওপ প্রভাব ফেলেছে। শোকাহত হৃদয়ের কারণে কবি বসন্ত ঋতুর আগমন উপলব্ধি করতে পারছেন না। নবীনের মতো কবির হৃদয়ও প্রিয়জন হারানোর বেদনায় আচ্ছন্ন। প্রিয়জনকে হারিয়ে কবির অনুভতির দিকটি এভাবেই উদ্দীপকের নবীনের মাঝে প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রিয়জন হারানোর বেদনা কবির শিল্পীসত্তার ওপর যে প্রভাব বিস্তার করেছে উদ্দীপকেও তার প্রতিফলন ঘটেছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির ব্যক্তিগত দুঃখবোধ তাঁর কবিমনকে আচ্ছন্ন করেছে। বেদনায় আবিষ্ট কবির কাছে তাই বসন্তের সৌন্দর্য ম্লান। প্রিয়জনের বিয়োগ-ব্যথায় কবির হৃদয়ের দুঃখ-স্মৃতিই তাঁর কাছে বসন্তের আগমনকে নিষ্প্রভ করে তুলেছে।
উদ্দীপকে নবীন প্রিয়জন হারিয়ে শোকাচ্ছন্ন। তাঁর বিষণ্ণ মন তাঁর শিল্পীসত্তায় প্রভাব ফেলেছে। তাঁর কাজে উজ্জ্বল রং-রেখার পরিবর্তে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেশি ধরা দিয়েছে। পূর্বের ছবির উজ্জ্বলতা ম্লান হয়ে গেছে। নবীনের মতো আলোচ্য কবিতায় কবিও প্রিয়জন হারিয়ে শোকাচ্ছন্ন। ঋতুরাজ বসন্তু তাঁর মনে দোলা দেয়নি। নবীনের মতো । আলোচ্য কবিতার কবিকেও ব্যক্তিজীবনের শোকের আবহ সৃষ্টিকর্মকে প্রভাবিত করেছে।
উদ্ধৃত উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতা- উভয়ক্ষেত্রেই সৃষ্টিকর্মের ওপর ন ব্যক্তিগত দুঃখ-বেদনার প্রভাবের স্বরূপ চিত্রিত হয়েছে। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির প্রিয়জন হারানোর ফলে বসন্তের আহ্বানে সাড়া দিতে না পারার অনুভূতি উদ্দীপকে নবীনের ছবির ধরন পরিবর্তনেরই অনুরূপ। ব্যক্তিগত দুঃখবোধে আছন্ন কবি যেমন বসন্তকে বরণ করতে পারেননি, তেমনই নবীনের ব্যক্তিগত দুঃখবোধও তার ছবির ভাষাকে বদলে দিয়েছে। বসন্তে যেখানে কবির ভাব ও ছন্দের মিলনে অনুপম কাব্য সৃষ্টি হওয়ার কথা, সেখানে কবি উদাসীন থেকেছেন রিক্ত শীতের প্রতীকে প্রিয়জন হারানোর বেদনায়। সৃষ্টিকর্মের ওপর ব্যক্তিগত বেদনাবোধের প্রভাব উদ্দীপকেও রূপায়িত হয়েছে, যা 'তাহারেই পড়ে উপস্থাপনে সার্থক বলা যেতে পারে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৪: আজ থেকে তিন বছর আগে কবির ছোট সন্তানটি মারা গেলে কবি তাকে একটি দিনের জন্যও ভুলতে পারেননি। কিন্তু পরে পরিবারে। আরেকটি সন্তান জন্মগ্রহণ করলেও তাকে তিনি আনন্দিত চিত্তে গ্রহণ করতে পারেননি। নতুন শিশুর প্রতি কবির এহেন উদাসীনতার কারণ সম্পর্কে পরিবারের সদস্যরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'হে অতীত তুমি ভুবনে ভূবনে, কাজ করে যাও গোপনে গোপনে।
ক. অর্ঘ্য বিরচন শব্দের অর্থ কী?
খ. 'বসন্ত-বন্দনা তব কণ্ঠে শুনি এ মোর মিনতি'—কবির কাছে কেন এ মিনতি করা হয়েছে?
গ. উদ্দীপকটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার সাথে কতটুকু সাদৃশ্যপূর্ণ বলে তুমি মনে করো?
ঘ. 'হে অতীত তুমি ভুবনে ভুবনে, কাজ করে যাও গোপনে গোপনে'— উক্তিটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. অর্ঘ্য বিরচন শব্দের অর্থ অঞ্জলি বা উপহার রচনা।
খ. বসন্তের আগমনে কবির উদাসীনতা দেখে কবিভক্ত কবিকে কাব্য। রচনায় মিনতি করেছেন।
প্রকৃতিতে বসন্ত এসেছে। কিন্তু বসন্তের আগমন সত্ত্বেও কবির সেদিকে কোনো লক্ষ নেই। উদাসীন কবির এ অবস্থায় কবিভক্ত তাকে সচেতন করে। তোলার চেষ্টা করছেন। বসন্তের বন্দনায় তাই কবিকে কাব্য রচনায় মনোনিবেশ করার মিনতি করা হয়েছে।
গ. প্রিয়জনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার সাথে অনেকটা সাদৃশ্যপূর্ণ।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটিতে কবির ব্যক্তিজীবনের দুঃখময় ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে। কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির জীবনে প্রচণ্ড শূন্যতা নেমে আসে । দুঃসহ বিষণ্নতায় ভরে ওঠে তাঁর জীবন ।
উদ্দীপকে কবির প্রিয় ছোট সন্তান হারানোর দিকটি ফুটে উঠেছে। প্রিয়জন দূরে চলে গেলেও হৃদয়ে তার স্মৃতিরাই আনাগোনা করতে থাকে। আরেকটি সন্তান জন্ম নিলেও মৃত সন্তানটিকে ভুলতে না পারার কথা উদ্দীপকটিতে ফুটে উঠেছে। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির স্বামী মারা যাওয়ায় কবিমন শোকাচ্ছন্ন হয়েছে। বসন্তের সৌন্দর্য তাঁর হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারছে না। তাঁর ব্যক্তিজীবন ও কাব্যসাধনার ক্ষেত্রে বেজে ওঠে বিষাদের সুর। প্রিয়জনকে হারিয়ে হৃদয়ের যে করুণ অবস্থা হয় তা উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতা উভয়ক্ষেত্রেই একইভাবে ফুটে উঠেছে।
ঘ. হে অতীত তুমি ভুবনে ভুবনে, কাজ করে যাও গোপনে গোপনে'— উক্তিটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির অতীত স্মৃতিকাতরতাকে যেন আচ্ছন্ন করে আছে।
‘তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি প্রিয়জন হারানোর স্মৃতিতে ব্যাকুল ও কাতর। স্বামী বিয়োগের স্মৃতি কবিকে যেন তাড়া করে ফেরে। তাঁর ভেতরে স্বামীর স্মৃতি গোপনে গোপনে ব্যথা দিয়ে যায়। এ কারণে তাঁর কাব্যসাধনায় ছেদ পড়ে। তাঁর মন পড়ে থাকে এক গভীর বেদনায় কাতর হয়ে।
উদ্দীপকের চরণটিতে মানুষের অতীত স্মৃতি হৃদয়ে কীভাবে রেখাপাত করে, সে বিষয়টি ফুটে উঠেছে। মানুষ যাকে বেশি ভালোবাসে তার বিয়োগে সে বেশি কষ্ট পায় । তার প্রতিটি স্মৃতি বারবার মনে পড়ে। মনের ভেতরে সে স্মৃতি হাহাকার করে ওঠে। তখন প্রিয়জন হারানো মানুষটি নিজের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যই যেন হারিয়ে ফেলে।
‘তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি তাঁর সবচেয়ে কাছের মানুষটিকে হারিয়েছেন। সে মানুষটি হলো তাঁর স্বামী। স্বামীর সাথে অনেক সুখ-দুঃখের স্মৃতি জড়িয়ে থাকায় কবি তাঁর মৃত্যুতে দিশেহারা। যেখানে কবি প্রকৃতি ও মনের ভাবাবেগে কাব্য রচনা করবেন, সেখানে কবি নীরব ও বিষণ্ন হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। প্রকৃতিতে বসন্ত তার রূপ-যৌবন নিয়ে আবির্ভূত হলেও কবির সেদিকে খেয়াল নেই। ফাগুনের প্রভাব কবির হৃদয় স্পর্শ করেনি। কারণ কবি যে হৃদয়ের অভ্যন্তরে রিক্ততার সুর লালন করছেন। স্বামীর স্মৃতি তাকে দুঃসহ বিষণ্নতায় ঢেকে দিয়েছে। সে অতীত গোপনে গোপনে কবির ভেতরে কাজ করে যাচ্ছে। কবির এই বিষণ্নতাই যেন উদ্দীপকের আলোচ্য চরণটি ফুটিয়ে তুলেছে ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৫: শীতের রিক্ততা শেষে বসন্তের আগমন ঘটে। চারিদিকে বসে সবুজের বিশাল সমারোহ। এমন সুন্দর ক্ষণে প্রণিতা তার স্বামীকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিল । পথিমধ্যে এক আকস্মিক দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় তার প্রিয় স্বামীর জীবন। এতে প্রণিতা স্তব্ধ হয়ে যায়। বসন্তের সবুজ-শ্যামল ছায়া তার অন্তরকে গভীরভাবে আর স্পর্শ করতে পারে না।
ক. সুফিয়া কামালের স্বামীর নাম কী?
খ. বসন্তের প্রতি কবি কেন তীব্র বিমুখতা পোষণ করেছেন?
গ. প্রণিতার মাঝে কীভাবে সুফিয়া কামালের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে? ‘তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. প্রণিতার মনে বসন্তের প্রভাব কতটুকু পড়েছিল? 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. সুফিয়া কামালের স্বামীর নাম সৈয়দ নেহাল হোসেন।
খ. প্রিয়জন হারানোর ব্যথায় কবি বসন্তের প্রতি তীব্র বিমুখতা পোষণ করেছেন।
প্রকৃতির সৌন্দর্য মানবমনে অফুরন্ত আনন্দের উৎস হিসেবে কাজ করে। বসন্ত প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য কবির মনে শিহরন জাগাবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু কবিমন প্রিয়জন হারানোর ব্যথায় রিক্ততার হাহাকারে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। তাই বসন্তের প্রতি কবির তীব্র বিমুখতা।
গ. প্রিয়জনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির মধ্যে যে হাহাকার প্রকাশ পেয়েছে, তা প্রণিতার মাঝেও বিদ্যমান।
‘তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটিতে কবির ব্যক্তিজীবনের দুঃখময় ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে। কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির জীবনে বিশাল শূন্যতা নেমে আসে। দুঃসহ বিষণ্নতায় ভরে ওঠে তাঁর জীবন।
উদ্দীপকে প্রণিতা চরিত্রটির মাধ্যমে প্রিয়জন হারানোর দিকটি ফুটে উঠেছে। আকস্মিক দুর্ঘটনায় তার স্বামী মৃত্যুবরণ করে। এতে প্রণিত স্তব্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে, 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির স্বামী মারা যাওয়ায় কবিমনও শোকাচ্ছন্ন হয়েছে। ফলে বসন্তের সৌন্দর্য তাঁর হৃদয়কে স্পর্শ করেনি। তাঁর ব্যক্তিজীবন ও কাব্যসাধনার ক্ষেত্রে বেজে উঠেছে বিষাদের সুর। প্রিয়জনকে হারালে হৃদয়ের যে করুণ অবস্থা হয় তা উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতা উভয়ক্ষেত্রেই ফুটে উঠেছে।
ঘ. স্বামীর মৃত্যুর কারণে প্রণিতার মনে বসন্তের প্রভাব ম্লান হয়ে ধরা পড়েছে, যা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির মানসিক অবস্থারই অনুরূপ।
বসন্তের আগমনে গাছে ফুল ফোটে, মানব মনে শিহরন জাগে। কিন্তু প্রিয়জন হারিয়ে যার মন বিরহকাতর, তার মনে শিহরন জাগে না। তখনই অনুভূত হয় প্রিয়জন হারানোর শোক মানুষকে কতটা ব্যথায় আচ্ছন্ন করে। উদ্দীপকের প্রণিতা বসন্তের আগমনকে সাদরে বরণ করে নিয়েছিল। কিন্তু বসন্তের সুন্দর ক্ষণেই তার জীবনে নেমে আসে করুণ পরিণতি। আকস্মিক দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় তার প্রিয় স্বামীর জীবন। এতে প্রণিতা স্তব্ধ হয়ে যায়। বসন্তের সবুজ-শ্যামল ছায়া তার অন্তরকে গভীরভাবে আর স্পর্শ করতে পারেনি। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির জীবনেও প্রণিতার মতো বিষণ্নতা নেমে আসে।
সাধারণত প্রকৃতির সৌন্দর্য মানবমনের অফুরন্ত আনন্দের উৎস। বসন্ত প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য যে কবিমনে আনন্দের শিহরন জাগাবে এবং তিনি তাকে ভাবে-ছন্দে-সুরে ফুটিয়ে তুলবেন, সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু আলোচ্য কবিতায় কবি স্বামীর মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন বলে বসন্ত তার সমস্ত সৌন্দর্য নিয়ে হাজির হওয়া সত্ত্বেও কবির অন্তরকে স্পর্শ করতে পারেনি। একইভাবে প্রণিতা স্বামীকে হারিয়ে বসন্তের অপার সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে পারে না। স্বামী শোকে বিহ্বল হয়ে বসন্তের শ্যামল সবুজ ছায়া তার জীবনে এখন অর্থহীন। তাই প্রিয়জন হারানো প্রণিতা ও সুফিয়া কামালের জীবনে বসন্তের প্রভাব ম্লান।
আরও পড়ুনঃ অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
আমাদের শেষ কথা
তাহারেই পড়ে মনে কবিতার mcq, তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, তাহারেই পড়ে মনে কবিতার ব্যাখ্যা ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারলেন। আজকের আর্টিকেলটি পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।
Ggh
ডথডথ