বিলাসী গল্পের বহুনির্বাচনী প্রশ্ন | বিলাসী গল্পের mcq

বিলাসী গল্পের বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ভালো করে আয়ত্ব করতে হলে বিলাসী গল্পের বিষয়বস্তু ভালো করে পড়তে হবে। বিলাসী গল্পের বিষয়বস্তু বোঝার জন্য বিলাসী গল্প টি আগে ভালো করে পড়তে হবে। বিলাসী mcq ভালো করে পড়লে বিলাসী গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া সহজ হবে। 

বিলাসী গল্পের বিষয়বস্তু দুইজন মানব-মানবীকে ঘিরে। জীবনের বিভিন্ন বাধা-বিপত্তি দ্বন্দ্ব-সংঘাতে মধ্যে দিয়ে বিলাসী গল্প টি রচিত হয়েছে। শরৎচন্দ্রের রচিত বিলাসী গল্পটি ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। বিলাসী গল্পটি উত্তম পুরুষের জবানিতে রচিত হতে পারে।

বিলাসী গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পড়ার আগে বিলাসী গল্পের বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ও উত্তর পরে নেওয়া যাক। তাহলে পরবর্তীতে সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লিখতে অনেক সুবিধা হবে। তাই আমরা আজকে বিলাসী গল্পের বহুনির্বাচনী প্রশ্ন উত্তর পড়ব।

আজকের আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে যে বিষয়গুলো জানতে পারবেন তা নিয়ে একটি ধারণা নেওয়া যাক। আজকে আমরা কানবো বিলাসী গল্পের mcq এবং বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর।

বিলাসী গল্পের বহুনির্বাচনী প্রশ্ন | বিলাসী গল্পের mcq

বিলাসী গল্পের বহুনির্বাচনী প্রশ্ন গুলো যদি ভালোভাবে পড়া যায় তাহলে অনেক উপকার হবে। কারণ সৃজনশীল প্রশ্ন লিখতে গেলে বহুনর্বাচনী প্রশ্ন থেকে আইডিয়া নিয়ে লেখা যাবে । আবার সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে বিলাসী গল্পের বহুনির্বাচনী প্রশ্ন জানা জরুরী।
বিলাসী গল্পের বহুনির্বাচনী প্রশ্ন | বিলাসী গল্পের mcq
বিলাসী গল্পের mcq জানা এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য খুবই জরুরী। কারণ অল্প সময়ে অনেক পড়াশোনা করতে হবে। কিন্তু বিলাসী mcq পড়তে গেলে অনেক সময় লাগে। তাই আমরা বিলাসী mcq গুলো বিলাসী জ্ঞানমূলক আকারে পড়ব তাহলে আমরা অনেক কম সময়ে বেশি পড়তে পারব।

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পের খুড়া কোন বংশের?
উত্তর: বিলাসী গল্পের খুড়ো মিত্তির বংশের।

প্রশ্ন- শরৎ চট্টোপাধ্যায় কত খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে।

প্রশ্ন- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার কোন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: দেবানন্দপুর গ্রামে।

প্রশ্ন- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর পিতার নাম কি?
উত্তর: মতিলাল চট্টোপাধ্যায়।

প্রশ্ন- ন্যাড়ার স্কুলে যাতায়াতের পথ কত ক্রোশ দূরে?
উত্তর: দুই ক্রোশ দূরে।

প্রশ্ন- নেহা ও তার সহপাঠীরা ২ ক্রোশ পথ হেঁটে স্কুলে যাওয়ার কারন কি?
উত্তর: কাছে ইস্কুল না থাকায়।

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পে বর্ণিত যাদের বাড়ি পল্লীগ্রামে তাদের শতকরা কতভাগ কে বিদ্যা অর্জনের জন্য দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়?
উত্তর: ৮০ ভাগ কে।

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পে "সরস্বতী" খুশি হইয়া বড় দিবেন কি- কথার অর্থ কি?
উত্তর: ছাত্রদের কষ্ট*
*হিন্দু ধর্ম মতে সরস্বতী হলেন বিদ্যা ও কলার অধিষ্ঠাত্রী দেবী! বিদ্যা অর্জন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কষ্টের স্বরূপ উল্লেখ করে বলা হয়েছে বালকদের সরস্বতী বিদ্যার দেবেন, না তাদের যন্ত্রণা দেখে লজ্জিত হবেন তা ভেবে পান না!

প্রশ্ন- কামস্কাটকার রাজধানী কোন গল্পে উল্লেখ আছে?
উত্তর: বিলাসী।

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পে ন্যাড়া পরীক্ষার উত্তরপত্রে হুমায়ুনের পিতার নাম কি লিখেছিল?
উত্তর: তোগলক খা

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পে মাঝে মাঝে স্কুলের পথে কার সাথে ন্যাড়ার দেখা হতো?
উত্তর: মৃত্যুঞ্জয় এর সাথে

প্রশ্ন- সম্ভবত তাহা প্রত্নতাত্ত্বিকদের গবেষণার বিষয়- উক্তিতে কি প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: উক্তিটিতে ব্যঙ্গ প্রকাশ পেয়েছে*
*মৃত্যুঞ্জয় কে গল্পকথক ও তার পরিচিত জনেরা সবসময় থার্ডক্লাস এই পড়তে দেখেছেন। আগের শ্রেণীগুলোতে কবে পড়েছে সেই ইতিহাস কারোরই জানা নেই এ কারণে গল্পটিতে ব্যঙ্গ করে আরো চুক্তিটির অবতারণা করিয়েছে!

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পে গ্রামের এক প্রান্তে কার বাগান ছিল?
উত্তর: মৃত্যুঞ্জয়ের বাগান ছিল

প্রশ্ন- মৃত্যুঞ্জয়ের জীবিকা নির্বাহ হত কিভাবে?
উত্তর: ভাইপোর নানাবিধ দুর্নাম করা*
*মৃত্যুঞ্জয়ের প্রকাণ্ড বাগান দখলের লোভ ছিল খুড়ার মনে। তাই তিনি মৃত্যুঞ্জয়ের গ্রামে গ্রামে গ্রামে নানা কুৎসা রটাতেন।

প্রশ্ন- মৃত্যুঞ্জয়ের বাগানের অর্ধেক অংশকে নিজের বলে দাবি করত?
উত্তর: খুড়া

প্রশ্ন- উপরের আদালতের হুকুমে বলতে- কোনটিকে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: স্রষ্টার নির্দেশ কে বোঝানো হয়েছে

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পে মৃত্যুঞ্জয় প্রসঙ্গে সংগ্রাম কথাটি দ্বারা কি প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: দুর্নাম প্রকাশ পেয়েছে*
*খুড়ার নানাবিধ রটনার কারণে মৃত্যুঞ্জয় কে সবাইকে এড়িয়ে চলত। এমনকি তার কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে উপকৃত হওয়া লোকেরাও তার সাথে কথা বলার বিষয়টি স্বীকার করতে চাইত না। গল্পে মৃত্যুঞ্জয় এর এমন দুর্নাম কে বলা হয়েছে।

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয় কে দেখতে ন্যাড়া কখন তার বাড়িতে যায়?
উত্তর: সন্ধ্যায়

প্রশ্ন- যমরাজ মৃত্যুঞ্জয় এর সাথে সুবিধা করতে পারেনি কার জোরে?
উত্তর: বিলাসীর জোরে

প্রশ্ন- সামনে পরীক্ষা বলে শুরু কি নাওয়া খাওয়া ভুলে রাত জেগে পড়াশোনা করাই ও লাবণ্যময় চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে গেছে সুরুবির ক্ষেত্রেও  প্রযোজ্য কোনটি?
উত্তর: ঠিক যেন ফুলদানিতে জলদিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুল।

প্রশ্ন- দশ পনেরো দিন অসুস্থতায় মৃত্যুঞ্জয় কিভাবে পড়েছিল?
উত্তর: অজ্ঞান অচৈতন্য অবস্থায়

প্রশ্ন- ন্যাড়া কে বনের পথ পার করে দিতে বিলাসীর দ্বিধার মূল কারণ কোনটি?
উত্তর: মৃত্যুঞ্জয় কে একাকী রেখে যাওয়া

প্রশ্ন- বিলাসী কে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার পেছনের কারণ কি ছিল?
উত্তর: মানসিক সংকীর্ণতা

প্রশ্ন- মহত্ত্বের কাহিনী আমাদেরও অনেক আছে এখানে মহত্ত্ব কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: 

প্রশ্ন- ন্যাড়া সন্ন্যাসী গিরিতে ইস্তফা দেয় কেন?
উত্তর: মশার কামড়ে

প্রশ্ন- কি দেখে ন্যাড়া বুঝতে পারল মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসী সুখে আছে?
উত্তর: তাদের মুখে প্রসন্নতা দেখে।

প্রশ্ন- বিলাসী কেন আত্মহত্যা করেছিল?
উত্তর: স্বামীর শোকে বিলাসী আত্মহত্যা করেছিল

প্রশ্ন- বিলাসীর আত্মহত্যা পরিহাসের বিষয় হল কেন?
উত্তর: সমাজ ভালোবাসার মূল্য দিতে জানে না বলে

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পে বিলাসী মৃত্যু হয় কিভাবে?
উত্তর: বিষপান করে

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পে বিলাসী ভয়ে নীল হয়ে গিয়েছিল কি দেখে?
উত্তর: লাঠিসহ গ্রামবাসীকে দেখে

প্রশ্ন- বিলাসীর সৎ মানসিকতার পরিচয় মেলে কিভাবে?
উত্তর: শিকর বিক্রি নিষেধ করার মাধ্যমে

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পে কোন সমাজের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: রক্ষণশীল সমাজের কথা বলা হয়েছে

প্রশ্ন- মৃত্যুঞ্জয়ের খুরা ষোলআনা বাগান লাভ করলো কিভাবে?
উত্তর: মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর ফলে

প্রশ্ন- বিলাসীর আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে কি প্রকাশ হয়েছে?
উত্তর: ভালোবাসার জয়

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পের লেখক কেন্দ্রীয় চরিত্রের কোনদিকে প্রধান রূপে ফুটিয়ে তুলেছেন?
উত্তর: প্রেমের মহিমা

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পে তৎকালীন সমাজের কোন চরিত্রটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে?
উত্তর: জাতিভেদ প্রথা

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পের রক্ষণশীল সমাজের পরিচয় কোন চরিত্রের মধ্যে ফুটে উঠেছে?
উত্তর: খুড়া

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পে বাঙালির বিষ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: বাঙালির ক্রোধ

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পে ব্যবহৃত খিঁচুনি শব্দের অর্থ ?
উত্তর: বাঁশের ঝুড়ি

প্রশ্ন- কামাখ্যা কি?
উত্তর: তীর্থস্থান 

প্রশ্ন- ফলাহার শব্দটি বিলাসী গল্পে কোন অর্থ প্রকাশ করে?
উত্তর: জলযোগ

প্রশ্ন- প্রত্নতাত্ত্বিক বলতে  কোনটি বোঝায়?
উত্তর: পুরাতত্ত্ববিদ

প্রশ্ন- গুলি বলতে বিলাসী গল্পে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: মাদককে বোঝানো হয়েছে

প্রশ্ন- মনসা কিসের দেবী?
উত্তর: সাপের দেবী

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পে উল্লেখিত সময়কালে দশম শ্রেণি ছিল কোনটি?
উত্তর: ফার্স্ট ক্লাস

প্রশ্ন- বীণাপাণি কিসের দেবী?
উত্তর: বিদ্যার দেবী

প্রশ্ন- রম্ভা অর্থ কি?
উত্তর: রম্ভা অর্থ কলা

প্রশ্ন- অকালকুষ্মাণ্ড অর্থ কি?
উত্তর: অকালকুষ্মাণ্ড অর্থ অকর্মণ্য ব্যক্তি

প্রশ্ন- যিনি প্রথম মন্ত্র লাভ করেন তাকে কি বলা হয়?
উত্তর: মন্ত্রের দ্রষ্টা


প্রশ্ন- যিনি মৃত্যুকে জয় করেন তাকে কি বলা হয়?
উত্তর: মৃত্যুকে জয় করলে তাকে বলা হয় মৃত্যুঞ্জয়

প্রশ্ন- এডেন কি?
উত্তর: বন্দর

প্রশ্ন- কৃতবিদ্য শব্দের অর্থ কি?
উত্তর: বিদ্বান

প্রশ্ন- বিষকন্ঠ মহেশ্বর এর অন্য নাম কি?
উত্তর: মৃত্যুঞ্জয়

প্রশ্ন- প্রকৃতিস্থ শব্দটি কি নির্দেশ করে?
উত্তর: স্বাভাবিক

প্রশ্ন- পুরান মতে কোন যুগে অন্যায় অসত্য ও অধর্মের বাড়াবাড়ি ঘটবে?
উত্তর: কলিযুগে

প্রশ্ন- ভারতী পত্রিকায় বিলাসী গল্পটি কোন সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
উত্তর: ১৩২৫ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যা

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পের প্রতিপাদ্য বিষয় কি?
উত্তর: ব্যতিক্রমধর্মী মানব-মানবীর প্রেম

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকায়?
উত্তর: ভারতী পত্রিকায়

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পের লেখক কে?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
উত্তর: ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে

প্রশ্ন- ন্যাড়া চরিত্রে কার প্রথম জীবনের প্রতিচ্ছবি রয়েছে?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পটি কোন সময়ে সামাজিক অসঙ্গতি কে ইঙ্গিত করে?
উত্তর: উনিশ শতকের

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পটি কার জবানিতে বর্ণিত হয়েছে?
উত্তর: বিলাসী গল্প ন্যাড়া এর জবানিতে বর্ণিত হয়েছে

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পের নামকরণ করা হয় কিসের আলোকে?
উত্তর: নায়িকা চরিত্রের আলোকে

প্রশ্ন- বিলাসী গল্পে কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
উত্তর: বিলাসী

বিলাসী গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

বিলাসী গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন পড়ার পরে বিলাসী গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন পড়লে উত্তর দিতে সুবিধা হবে। কারণ সৃজনশীল প্রশ্নের মধ্যে বিলাসী গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন থাকবে। তাই অনুধাবনমূলক প্রশ্ন গুলো ভালো করে পড়ে নিলে দশের মধ্যে দশ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। তাই বিলাসী গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন গুলো আগে পড় নিতে হবে। এখন আমরা বিলাসী গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন গুলো পড়ব

প্রশ্ন- ইহা আরেকটি শক্তি-- বলতে কি বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ইহার একটি শক্তি কথাটির দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার প্রকৃত ভালোবাসার প্রসঙ্গ কে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

স্বামী-স্ত্রী বহুবছর একত্রে বসবাস করলেও সত্তিকারের ভালোবাসার সন্ধান খুব কম যুগলই পায়। আলোচ্য গল্পে প্রসঙ্গক্রমে গল্পকথক তার এক আত্মীয়ের উদাহরণ টেনেছেন। সেই নারী স্বামীর সাথে 25 বছর ঘর করেছে অথচ স্বামীর মৃত্যু হলে পাঁচ মিনিটও একাকী থাকার সাহস তার নেই। এর কারণ প্রকৃত ভালোবাসার সম্পর্কের অনুপস্থিতি। স্বামীর মৃত্যু দেহের কাছে থাকার জন্য প্রয়োজন ছিল আরেকটি শক্তি- ভালবাসা। প্রশ্নগুলির মধ্যে দিয়ে এ বিষয়টি উঠেছে।

প্রশ্ন- খুড়া মৃত্যুঞ্জয় কে অন্ন পাপের জন্য দায়ী করেছেন কেন?
উত্তর: নিচু জাতের বিলাসীর হাতে ভাত খাওয়ার কারণে খুড়া মৃত্যুঞ্জয় কে অন্ন পাপের জন্য দায়ী করেছেন।

বিলাসী গল্পে হিন্দু সমাজ ব্যবস্থায় জাত প্রথার বিষবাষ্পের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। সেই সমাজব্যবস্থায় নিচু জাতের কারো হাতে রান্না করা খাবার বিশেষত ভাত খেলে অন্ন পাপ হয় বলে মনে করা হয়। আর এই অন্ন পাপের কোন প্রায়শ্চিত্ত নেই। অসুস্থ মৃত্যুপথযাত্রী মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করতে আসা বিলাসীর হাতে খাবার খাওয়া মেনে নিতে পারেনি ধর্মান্ধরা। তাই তিনি অন্নপাপের জন্য দায়ী করেছেন।

প্রশ্ন- বুক যদি কিছুতে ফাটে সেতো এই মৃত স্বামীর কাছে একলা থাকিলে--- কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: একসঙ্গে বহু কাল বসবাস করেও শুধু ভালোবাসার অভাবে অনেক নারীর মৃত্যু ভয় কে জয় করতে পারে না। তাই মৃত স্বামীর কাছে একা থাকতে ভয় তাদের বুক ফাটে।

বহুকালের এক সঙ্গে সংসার করার পরও অনেক স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা তৈরি হয় না। এ কারণে তারা স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু শোক সইতে পারলেও, মৃত দেহটাকে মুহূর্তকাল সহ্য করার সাহস পায় না। স্বামীর মৃত্যু শোকে তাদের যতটা না বুক ফাটে তার চেয়ে বেশি বুক ফাটে মৃত স্বামীর কাছে একলা থাকার ভয়ে। প্রকৃতপক্ষে ভালোবাসার অভাব এ মৃতদেহ তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। এ বিষয়টিকে বোঝাতেই গল্পকার প্রশ্নের অবতারণা করেছেন


বিলাসী গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন

বিলাসী গল্পের বহুনির্বাচনী প্রশ্ন পড়লাম। এরপর বিলাসী গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন, বিলাসী গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন, পড়ার পরে যদি বিলাসী গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন পড়ি, তাহলে পড়াটাও অনেক ভাল হবে। তাই এবার আমরা বিলাসী গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর পড়ব। তাহলে আমাদের বিলাসী গল্প টা ভালোভাবে পড়া হবে।

                           সৃজনশীল ১:

সুভাষ চক্রবর্তী মা বাবার অমতে শূদ্র বর্ণের মেয়ে সুলতাকে বিয়ে করার করায় তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। বর্ণপ্রথার শিকার সুভাষ ও সুলতা চরম অর্থকষ্টে পড়লেও সমাজের কাছে হার মানেনি। নির্মম বর্ণপ্রথা কে তারা ঘৃণা করে। তারা মনে করে সব ধরনের জাত ভেদের উপরে মানব ধর্মের স্থান।
ক. বিলাসী গল্পে কোন দেবীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
খ. তাহার বয়স আঠারো কি আঠাশ ঠাহর করিতে পারিলাম না--- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সুভাষ ও সুলতার পরিণতি বিলাসী গল্পের কোন ব্যাক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত? আলোচনা করো।
ঘ. সব ধরনের যাদের উপরে মানব ধর্মের স্থান-- এর তাৎপর্য বিলাসী গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

বিলাসী গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর ১:

ক. বিলাসী গল্পে দেবী সরস্বতী দেবী মনসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

খ. মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করতে গিয়ে স্বাস্থ্যহানির শিকার হওয়া বিলাসীকে দেখে গল্পকথক মেয়েরা আলোচ্য মন্তব্যটি করেছে।

মৃত্যুঞ্জয়ের রোগাক্রান্ত হলে বিলাসী দিনরাত সেবা-যত্ন করে তাকে সুস্থ করে তুলেছে। তাকে সুস্থ করতে গিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রমে বিলাসীর নিজের স্বাস্থ্যহানি হয়েছে। তাই ন্যাড়া যখন তাকে দেখেছে তখন সে বিভ্রান্তিতে পড়েছে। তার বয়স আসলে কত হবে তা সে বুঝে উঠতে পারেনি। এ অবস্থায় বিলাসীর স্বাস্থ্যহানি প্রসঙ্গেই ন্যাড়া উক্তিটির অবতরণ করেছে।

গ. উদ্দীপকের সুভাষ ও সুতার পরিণতি শত প্রতিকূলতা সয়ে বিলাসীর সঙ্গে মৃত্যুঞ্জয়ের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার দিকটির সঙ্গে সম্পর্কিত।

বিলাসী গল্পে উচ্চবর্ণের মৃত্যুঞ্জয় নিচুজাতের সাপুরেকন্যা বিলাসীকে নিয়ে ঘর করলে সমাজ মেনে নেয় না।
 মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর হাতে ভাত খেলে সম্পদ লোভী খুড়ো মৃত্যুঞ্জয়ের বিষয়টিকে অন্নপাপ আখ্যা দিয়ে তাদের সমাজচ্যুত করে। এমনকি বিলাসীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে গ্রাম থেকে বের করে দেয়। কিন্তু এতে তারা দমে যান নি বিলাসী কে নিয়ে সমাজ থেকে বেরিয়ে এসেছে।

উদ্দীপকের সুভাষ চক্রবর্তী মা বাবার অমতে শূদ্র বর্ণের মেয়ে সুলতাকে বিয়ে করে। কিন্তু রক্ষণশীল সমাজ তাদের এই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। পরিবার তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা চরমভাবে অর্থকষ্টে পড়ে। নানা প্রতিকূলতায় তারা তাদের এই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখে। একইভাবে বর্ণপ্রথার কারণে বিলাসী গল্পের মৃত্যুঞ্জয় কেও কঠিন পরিণতি বরণ করতে হয়েছে। শত কষ্ট সহ্য করেও মৃত্যুঞ্জয় বিলাসী কে ছেড়ে যায় নি। বিলাসী গল্পে ফুটে ওঠা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে মৃত্যুঞ্জয়ের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার সাথে উদ্দীপকের সুভাষ ও সুলতার পরিণতি সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. বিলাসী গল্পে গল্পকার বর্ণপ্রথা ও তার কুপ্রভাব বর্ণনার মধ্যে দিয়ে একটি মানবিক সমাজের প্রত্যাশা করেছেন।

বিলাসী গল্পে মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে ভালোবেসে বিয়ে করে নিজের ধর্মকে বিসর্জন দিয়েছে। বিলাসীর হাতে ভাত খাওয়ায় সমাজের চোখে মৃত্যুঞ্জয় অন্নপাপি হলেও,মনুষত্বের দিক বিবেচনায় তার স্থান অনেক উপরে। কারণ বিলাসীর আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়ে তাকে ভালবেসে। সেখানে জাতি ধর্মের ব্যাপকতা স্থান পায়নি। মানবিক বোধ এ উজ্জীবিত বলেই এমনটি করেছে।

উদ্দীপকের সুভাষ চক্রবর্তী মা বাবার অমতে বিয়ে করেছে শূদ্র বর্ণের মেয়ে সুলতাকে। বিয়ের পর রক্ষণশীল সমাজের অনুশাসন তাদের ঘরছাড়া করেছে। তা সত্বেও একে অপরকে ছেড়ে যায়নি তারা। সকল প্রতিকুলতাকে অতিক্রম করে ঘর বেঁধছে তাদের। এমন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে জাতি ধর্মের বৈষম্যের বিরুদ্ধে মূলত মানবতার জয় হয়েছে। বিলাসী গল্পে বিলাসী কে নিয়ে মৃত্যুঞ্জয়ের ঘর বাধার মধ্যেও একটি বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়।

বিলাসী গল্পে গল্পকার সমাজে জেঁকে বসা বর্ণ প্রথার বীভৎস রূপ তুলে ধরেছেন। উচ্চবর্ণের মৃত্যুঞ্জয়ের সঙ্গে নিম্নবর্ণের সাপুড়ে কন্যা বিলাসী কে কেন্দ্র করে বর্ণ বিভক্ত সমাজের রূপ উন্মোচন হয়েছে। শুধু তাই নয় সমাজের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে মৃত্যুঞ্জয়ের জাতি বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিভেদ মুক্ত পৃথিবীর আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন তিনি। একইভাবে উদ্দীপকের সুলতাকে বিয়ে করার ক্ষেত্রেও জাতিবর্ণের কথা ভাবেনি সে। তাকে ভালবেসেছে বলেই তাকে বিয়ে করেছে। অর্থাৎ আলোচ্য গল্প উদ্দীপক উভয় ক্ষেত্রেই হৃদয়ের ভালোবাসা ও মানুষের কাছে ধর্ম জাত সবকিছু স্নান হয়ে গেছে। সেই বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।

সৃজনশীল প্রশ্ন ২: শিউলি এখন বাবার সঙ্গে ঢাকায় এক বস্তিতে বাস করে। যখন তারা গ্রামে থাকত, তখন মাতব্বরের পুত্র লাভলুর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী রাতের অন্ধকারে তার ওপর নির্যাতন চালায়। শিউলির বাবা মাতব্বরের কাছে এর বিচার চাইলে মাতব্বর লোকজনকে দিয়ে বাবা মেয়েকে তাড়িয়ে দেন গ্রাম থেকে। ফলে প্রকৃত ঘটনা চাপা পড়ে যায় এবং মাতব্বরের জাত বাঁচে।

ক. সাপুড়েদের সবচেয়ে লাভের ব্যবসায় কী? 

খ. মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়ির পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিচয় দাও।

গ. উদ্দীপকের মাতব্বরের সঙ্গে 'বিলাসী' গল্পের জাত-গৌরবের মোহে অন্ধ গ্রামবাসীর সাদৃশ্য আলোচনা করো।

ঘ. উদ্দীপকটি 'বিলাসী' গল্পের সামগ্রিকতাকে ধারণ করতে পেরেছে কি? বিচার করো।


                        ২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. সাপুড়েদের সবচেয়ে লাভের ব্যবসায় হলো শিকড় বিক্রি করা।

খ. 'বিলাসী' গল্পে গল্পকথক ন্যাড়ার বর্ণনায় মৃত্যুঞ্জয়ের জঙ্গলাকীর্ণ বাড়ির পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিচয় পাওয়া যায়।

মৃত্যুঞ্জয়ের বাস ছিল গ্রামের এক প্রান্তে, বিশ-পঁচিশ বিঘা আয়তনের প্রকাণ্ড এক আম-কাঁঠালের বাগানের মধ্যে বিশাল একটা পোড়োবাড়িতে। এ পোড়োবাড়িতে প্রাচীরের বালাই ছিল না। স্বচ্ছন্দে যে কেউ বাড়ির ভেতরে ঢুকতে বা বের হতে পারত। রাতের অন্ধকারে ঘন জঙ্গল বাড়ির পরিবেশকে ভুতুড়ে ও ভীতিজনক করে তুলত।

গ. জাত-গৌরবের মিথ্যে অহমিকার দিক থেকে উদ্দীপকের মাতব্বরের সাথে 'বিলাসী' গল্পের গ্রামবাসীর সাদৃশ্য প্রতীয়মান হয়।

‘বিলাসী' গল্পে গল্পকার তৎকালীন বর্ণবিভক্ত সমাজের স্বরূপ তুলে ধরেছেন। সে সমাজে মানবিক সম্পর্কের চেয়ে বর্ণ বা জাত পরিচয়ই প্রাধান্য পেয়েছে। এ কারণেই উচ্চবর্ণের মৃত্যুঞ্জয়ের সাথে নিম্নবর্ণের বিলাসীর সম্পর্ককে মেনে নিতে পারেনি তারা। শুধু তাই নয়, তাদের নিপীড়নের শিকার হয়ে গ্রামছাড়া হতে হয় বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়কে।

উদ্দীপকে উল্লিখিত মাতব্বর শ্রেণিবৈষম্যে বিশ্বাসী। নিজ স্বার্থের জন্য লম্পট পুত্র লাভলুর লালসার শিকার শিউলি ও তার বাবাকে তিনি ক্ষমতার দাপটে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেন, যাতে প্রকৃত ঘটনা চাপা পড়ে যায়। শিউলির সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে তার প্রতিকার না করে মাতব্বর অন্যায়কে প্রশ্রয়। দিয়েছেন। আর এসবই তিনি করেছেন সমাজে তাঁর সম্মান রক্ষার্থে, জাত বাঁচাতে। একইভাবে, “বিলাসী' গল্পে উল্লিখিত গ্রামবাসীও বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়ের অসবর্ণের সম্পর্ককে মেনে নিতে না পেরে অন্নপাপের অজুহাতে তাদেরকে গ্রাম থেকে বের করে দেয়। অর্থাৎ উদ্দীপকের মাতব্বর এবং আলোচ্য গল্পের গ্রামবাসী অন্যায় কাজে প্রবৃত্ত হয় জাত-গৌরবের মিথ্যে অহমিকার বশবর্তী হয়েই। এদিক থেকে উদ্দীপকের মাতব্বরের সাথে ‘বিলাসী' গল্পের গ্রামবাসীর সাদৃশ্য পাওয়া যায়।

ঘ. কেবল রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থার স্বরূপ উন্মোচন করার সূত্রে উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’ গল্পের সামগ্রিকতাকে ধারণ করতে পারেনি।

‘বিলাসী’ গল্পে সেবাব্রতী বিলাসী আপ্রাণ সেবা-যত্ন দিয়ে মৃত্যুঞ্জয়কে সুস্থ করে তোলার সঙ্গে সঙ্গে তার হৃদয়ও জয় করে নেয়। কিন্তু শিক্ষার আলো বঞ্চিত এবং জাতিগত বিভেদের বেড়াজালে আবদ্ধ গ্রামবাসীর কাছে ভিন্ন বর্ণের এ দুই মানব-মানবীর ভালোবাসা ছিল মূল্যহীন। তাই তৎকালীন সামাজিক রীতি লঙ্ঘন করায় মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীকে গ্রামছাড়া করে তারা।

উদ্দীপকটিতে আলোচ্য গল্পের মতো ভালোবাসার মহত্ত্ব বর্ণিত হয়নি, শুধু সামাজিক অসংগতির একটি চিত্রই ফুটে উঠেছে। লম্পট মাতব্বরপুত্র লাভলু কর্তৃক পাশবিক নির্যাতনের শিকার শিউলি ও তার বাবা দ্বিতীয় দফা অন্যায়ের শিকার হয়েছে মাতব্বরের কাছে বিচার চাইতে গিয়ে। ছেলের কুকীর্তি প্রকাশিত হলে সমাজে সম্মানহানি ঘটার আশঙ্কায় মাতব্বর তাদের গ্রাম থেকে বের করে দিয়ে নিজের জাত বাঁচিয়েছেন মনে করে তৃপ্তি লাভ করেছেন। পক্ষান্তরে, ‘বিলাসী' গল্পের বিষয়বস্তু আরও ব্যাপক ও বিস্তৃত।

‘বিলাসী' গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়া এবং তার অনুসারী গ্রামবাসীর মধ্যে উদ্দীপকের মাতব্বরের অত্যাচারী মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়েকন্যা বিলাসীকে বিয়ে করায় সমাজে খুড়ার সম্মান নিয়ে টানাটানি পড়ে যায়। গ্রামের সম্মান বাঁচানোর অজুহাতে সে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীকে অপমান এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার মতো ঘৃণ্য কাজ করে। শুধু তাই নয়, গল্পটিতে সমাজের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে বিলাসী- -মৃত্যুঞ্জয়ের মিলনের মধ্য দিয়ে মানবিক সম্পর্কের জয় ঘোষিত হয়েছে। এছাড়া গল্পটিতে তৎকালীন শিক্ষাব্যবস্থাসহ সমাজব্যবস্থার একটি পূর্ণ চিত্র ফুটে উঠেছে। এসকল বিষয় উদ্দীপকে ফুটে ওঠেনি। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’ গল্পের সামগ্রিকতাকে ধারণ করতে পারেনি।


সৃজনশীল প্রশ্ন ৩: শহরে আপনজন বলতে তেমন কেউ নেই সোহানের। সম্প্রতি কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার প্রতি কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় না। এমনকি বন্ধুরাও সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে তাকে পরিত্যাগ করে। এ সময় সোহানের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে নীলিমা, যার সাথে তার বিয়ে ঠিক হয়েছে। বাবা-মায়ের নিষেধ অমান্য করে নীলিমা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সোহানের সেবা-শুশ্রূষা করে। নীলিমার নিবেদন দেখে বাবা-মায়ের ভুল ভাঙে। সোহানের বন্ধুরাও লজ্জিত হয় এবং বন্ধুর প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।

ক. কার সেবায় মৃত্যুঞ্জয় যমের মুখ থেকে ফিরে এসেছে?

খ. বিলাসী বিষপানে আত্মহত্যা করে কেন? 

গ. উদ্দীপকের নীলিমা কীভাবে 'বিলাসী' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো। 

ঘ. “বিলাসী’ গল্পে লেখকের যে প্রত্যাশাটি সুপ্ত রয়েছে উদ্দীপকে তা বাস্তব রূপ লাভ করেছে- মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

                            ৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. বিলাসীর সেবায় মৃত্যুঞ্জয় যমের মুখ থেকে ফিরে এসেছে।

খ. স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে বিলাসী বিষপানে আত্মহত্যা করে। 

বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের মাঝে ছিল গভীর প্রেম। সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীকে আপন করে পাওয়ার জন্যই মৃত্যুঞ্জয় জাত বিসর্জন দিয়ে পুরোদস্তুর সাপুড়ে জীবন বেছে নিয়েছিল। নিয়তির নির্মম পরিহাসে তার মৃত্যু হয় সাপের কামড়েই। ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে বেঁচে থাকাটা মূল্যহীন বলে মনে হয় বিলাসীর কাছে। এ কারণেই সে বিষপানে আত্মহত্যা করে মৃত্যুঞ্জয়ের অনুগামী হয়।

গ. সেবাপরায়ণতা ও প্রেমের মহিমায় উদ্দীপকের নীলিমা 'বিলাসী' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

'বিলাসী' গল্পটি আবর্তিত হয়েছে বিশ্বাসী নামক কর্মনিপুণা ও সেবাব্রতী একজন নারীকে ঘিরে। মৃত্যুপথযাত্রী মৃত্যুঞ্জয়কে সে সেবা-শুশ্রুষা করে সুস্থ করে তোলে। সাপুড়ে-কন্যা হয়েও সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে কায়স্থ। বর্ণের মৃত্যুঞ্জয়কে ভালোবাসে সে। তার ভালোবাসার শক্তিই মৃত্যুঞ্জয়কে সাহস জোগায় নিজের জাত বিসর্জন দিয়ে সাপুড়ে-জীবন বেছে নিতে। অবশেষে সাপের কামড়ে মৃত্যুঞ্জয়ের অকালমৃত্যু হলে বিলাসী নির্দ্বিধায় বেছে নেয় স্বেচ্ছামরণের পথ।

উদ্দীপকে বর্ণিত নীলিমা ও সোহানের বিয়ের কথা ঠিক হয়ে আছে। স্বজনহীন সোহান কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হলে তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রায় সবাই তাকে পরিত্যাগ করে। এ অবস্থায় অসহায় সোহান পাশে পায় নীলিমাকে। নীলিমা করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখেই নিজেকে যথাসম্ভব সুরক্ষিত রেখে সোহানের সেবা-শুশ্রূষা করে। সত্যিকারের ভালোবাসার অনুভূতিই যে নীলিমাকে এমন সেবাপরায়ণ ভূমিকা গ্রহণে প্রেরণা জুগিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। আলোচ্য গল্পে কেন্দ্রীয় চরিত্র বিলাসীকেও আমরা একইভাবে সেবাব্রতী ও প্রেমময়ী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখি।

ঘ. ‘বিলাসী' গল্পে মানবিক সমাজ নির্মাণের জন্য লেখকের প্রত্যাশা নিহিত রয়েছে, উদ্দীপকে যা বাস্তব রূপ লাভ করেছে।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিলাসী' গল্পে প্রকাশিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী দুজন মানব-মানবীর অনন্যসাধারণ প্রেমের মহিমা, যা জাতিগত বিভেদের সংকীর্ণ সীমা ছাপিয়ে গিয়েছে। অন্ত্যজ শ্রেণির সাপুড়ে-কন্যা বিলাসীর সাথে উচ্চবর্ণের মৃত্যুঞ্জয়ের প্রেম কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের দৃষ্টিতে ঘোর অন্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। গল্পে এ দুই নর-নারীকে কেন্দ্র করে প্রকৃত ভালোবাসার যে আখ্যান রচিত হয়েছে, তারই আলোয় ধরা পড়েছে রক্ষণশীল সমাজের অনুদারতা ও অমানবিকতার স্বরূপ।

উদ্দীপকে বর্ণিত সোহানের আপনজন বলতে তেমন কেউ নেই। সম্প্রতি সে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হলে সংক্রমণের ভয়ে বন্ধুরাও তাকে ত্যাগ করে। এসময় সে সহযোগিতা পায় কেবল নীলিমার কাছ থেকে, যার সাথে তার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। নীলিমা তার বাবা-মায়ের নিষেধ, এমনকি সংক্রমণের ঝুঁকিও উপেক্ষা করে সোহানের সেবা করে। তার ভালোবাসার শক্তিই সোহানের প্রতি অবজ্ঞাকারীদের মাঝে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে এবং একপর্যায়ে সবাই তার প্রতি সহানুভূতিশীল হয় ।

‘বিলাসী’ গল্পে উল্লিখিত সমাজব্যবস্থা উদ্দীপকের সমাজের মতো ইতিবাচক পথে চালিত হয়নি। এ গল্পে লেখক ন্যাড়া নামে কথকের ভূমিকায় আবির্ভূত হয়ে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর প্রণয়কাহিনি বর্ণনার মধ্য দিয়ে গল্পের ঘটনাকে এগিয়ে নিয়েছেন। সেইসঙ্গে শ্লেষ ও ব্যাঙ্গর সমন্বয়ে তিনি তুলে ধরেছেন বর্ণবাদী, রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থার নির্মমতা ও অসারতার স্বরূপ। উচ্চবর্ণের মৃত্যুঞ্জয় নিম্নবর্ণের বিলাসীর হাতে ভাত খেয়ে অন্নপাপ করেছে বলে তাদের গ্রামছাড়া করতে কুণ্ঠিত হয়নি সে সমাজ। মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর বিলাসীর আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনাও সমাজের চোখে পরিহাসের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এসব ঘটনা-পরম্পরায় গল্পকথকের চোখে বিলাসীর প্রেমের মহিমাই অত্যুজ্জ্বল হয়ে ধরা পড়েছে। 

পাশাপাশি, সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন সমাজব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি এর পরিবর্তন কামনা করেছেন। উদ্দীপকে আমরা দেখি নীলিমার প্রেমের মহিমায় অভিভূত হয়ে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে উজ্জীবিত হয়েছেন তার মা-বাবা। উদ্বুদ্ধ হয়েছে সোহানের বন্ধুরাও। ‘বিলাসী’ গল্পের লেখক শরৎচন্দ্র এমন মানবিক সমাজেরই প্রত্যাশা করেছেন, যেখানে মানবপ্রেম সর্বোচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হবে। এ বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ বলেই আমি মনে করি।

আমাদের শেষ কথা

বিলাসী গল্পের বহুনির্বাচনী প্রশ্ন, বিলাসী mcq, বিলাসী গল্পের mcq, বিলাসী গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন, বিলাসী গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারলেন। আশা করি আজকের আর্টিকেল পড়ে উপকৃত হয়েছেন। আশা করি বিলাসী গল্পটি আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে। ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

Please Share this On:

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url